শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ , ০৮:১৫ পিএম
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং দেশটির শীর্ষ সামরিক নেতাদের লক্ষ্য করে নতুন হামলার ছক কষছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন।
কয়েক দিন আগে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানের প্রস্তাব তৈরি করতে তেহরানের আরও কিছু সময় প্রয়োজন। এর মধ্যেই নতুন এই হামলার পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে।
সিএনএনের খবর অনুযায়ী, পেন্টাগন বেশ কয়েকটি হামলার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি, দক্ষিণ আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগরে থাকা ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত।
সূত্ররা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে যেসব নৌযান ইরানকে সাহায্য করছে, মূলত সেগুলোতেই এই হামলা চালানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) দ্রুতগামী নৌকা (ফাস্ট অ্যাটাক বোট) এবং মাইন বসানোর কাজে ব্যবহৃত নৌযানগুলো।
গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের কথায় এমন পরিকল্পনারই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানোর চেষ্টাকারী যেকোনো নৌযানকে মার্কিন নৌবাহিনী গুলি করে ধ্বংস করবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে ইরানের নৌবাহিনীর ব্যাপক ক্ষতি হলেও, আইআরজিসির দ্রুতগামী নৌকাগুলো ওই হামলা থেকে টিকে গেছে বলে জানা গেছে। এসব নৌকায় সাধারণত মেশিনগান বসানো থাকে এবং এগুলো মাইন স্থাপনের কাজেও ব্যবহার করা যায়। তবে ইরানি নৌযানগুলো এখন হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসাচ্ছে কিনা, তা যুক্তরাষ্ট্র এখনো নিশ্চিত করেনি।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের প্রস্তাবিত আরেকটি পরিকল্পনা হলো, ইরানের যেসব সামরিক নেতা আলোচনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো।
একই সঙ্গে সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবশিষ্ট সামরিক সক্ষমতার ওপরও পুনরায় হামলা শুরু করতে পারে। এর মধ্যে তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ও লঞ্চারগুলোও রয়েছে।
গতকাল ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত জবাব দিতে পারছে না। তিনি লেখেন, ইরান বুঝতেই পারছে না তাদের নেতা কে! তারা সত্যিই জানে না।
এই পরিস্থিতিকে 'পাগলাটে' আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প আরও লেখেন, যুদ্ধক্ষেত্রে চরমভাবে হেরে যাওয়া "কট্টরপন্থী" এবং "মডারেটদের" (যারা মোটেও মডারেট নন, তবে সম্মান কুড়াচ্ছেন) মধ্যেই মূলত এই কোন্দল চলছে।
আরটিভি/এসএস