সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:৫১ এএম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির কিলন শহরে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াল একদল স্কুলশিক্ষার্থী। হ্যানকক মিডল স্কুলের একটি বাসে চালক জ্ঞান হারিয়ে ফেললেও উপস্থিত বুদ্ধি, সাহস ও দ্রুত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাসটি নিরাপদে থামিয়ে দেয় তারা।
বুধবার(২২ এপ্রিল) স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীরা বাসে উঠে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিছুদূর যাওয়ার পরই চালক লিয়া টেলর তীব্র হাঁপানির সমস্যায় পড়ে অচেতন হয়ে যান। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতিতে চলতে থাকা বাসটি তখন বিপজ্জনকভাবে দুলতে থাকে।
ঠিক সেই মুহূর্তে ১২ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র জ্যাকসন ক্যাসনাভ পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত স্টিয়ারিং হুইল ধরে বাসটি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। একই সময় ড্যারিয়াস ক্লার্ক নামের আরেক শিক্ষার্থী ব্রেক চাপার চেষ্টা করে বাস থামানোর জন্য। যদিও বাসের শক্তিশালী এয়ার ব্রেক ব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি কঠিন ছিল, তবুও তাদের প্রচেষ্টায় বাসটি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অন্যদিকে ১৩ বছর বয়সী কেইলি জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করে সাহায্য চায়, যদিও বাসের ভেতরের বিশৃঙ্খলার কারণে যোগাযোগ কঠিন ছিল। ১৫ বছর বয়সী ডেস্টিনি কর্নেলিয়াস চালককে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে এবং তার নেবুলাইজার ব্যবহার করে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে ১৩ বছর বয়সী ম্যাকেনজি ফিঞ্চ চালকের মাথা সযত্নে ধরে রাখে এবং তার ফোন থেকে স্কুল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করে।
শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত এই উদ্যোগে বাসটি নিরাপদে থামানো সম্ভব হয় এবং বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালক লিয়া টেলরকে চিকিৎসা প্রদান করেন। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সাহসিকতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে সম্মান জানিয়ে বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করে। আবেগঘন কণ্ঠে চালক লিয়া টেলর বলেন, আমি এই শিক্ষার্থীদের নিয়ে গর্বিত। তারা আমার জীবন বাঁচিয়েছে।
এই ঘটনা প্রমাণ করেছে, সংকট মুহূর্তে ভয় না পেয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও পারস্পরিক সহযোগিতাই পারে বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, নিউইয়র্ক পোস্ট
আরটিভি/এসকে