images

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালিতে আটকে আছেন ২ হাজার ৪০০ নাবিক, বাড়ছে মানবিক সংকট

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:৫৩ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাবে হরমুজ প্রণালি এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, বড় ধরনের মানবিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রণালিটি ঘিরে সৃষ্টি হওয়া জটিলতায় হাজার হাজার নাবিক সপ্তাহের পর সপ্তাহ জাহাজে আটকা পড়ে আছেন। খাদ্য ও পানির সংকটের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

জাহাজ মালিকদের সংগঠন ইন্টারট্যাঙ্কোর তথ্যে জানা গেছে, অন্তত ১০৫টি ট্যাংকার ও কার্গো জাহাজে প্রায় ২ হাজার ৪০০ নাবিক আট সপ্তাহ ধরে আটকে আছেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরজুড়ে প্রায় ২ হাজার জাহাজে প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই সংকটে কার্যত বন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
আটকে পড়া নাবিকদের একজন, ভারতীয় জাহাজ অধিনায়ক রাহুল দাহার, জানান— হরমুজের প্রবেশমুখে তার তেলবাহী জাহাজটি দীর্ঘদিন ধরে স্থির হয়ে আছে। সামনে ও পেছনে সারিবদ্ধ অসংখ্য জাহাজের কারণে কোনো অগ্রগতি নেই।

নাবিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক জাহাজেই এখন টিনজাত খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। এক নাবিক বলেন, সবচেয়ে বেশি ভয় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার। ড্রোনও যেকোনো সময় আমাদের ওপর আঘাত হানতে পারে।
অনিশ্চিত উদ্ধার, জট খুলছে না

সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ চললেও বাস্তবে জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার কার্যকর অগ্রগতি নেই। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরানের বন্দরগুলোতেও বহু জাহাজ আটকে আছে, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এক নাবিক জানান, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে আমরা উদ্ধারের অপেক্ষায় আছি। কবে, কীভাবে এখান থেকে বের হব— কিছুই জানি না। আকাশে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও বোমা উড়তে থাকায় সবসময় আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।

এদিকে সংকটের মধ্যে ইরান শর্ত দিয়েছে— নির্দিষ্ট কিছু জাহাজকে পার হতে হলে প্রতি জাহাজে ২০ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হবে। এতে জাহাজ মালিক ও নাবিকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এক জাহাজের অধিনায়ক বলেন, আমরা মালিকদের বলেছি যেকোনোভাবে আমাদের এখান থেকে সরাতে হবে। তবে মালিকপক্ষ জানিয়েছে, এই সামুদ্রিক জট নিরসনের এখনও কোনো কার্যকর উপায় নেই।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

ইরানপন্থি হ্যাকারদের নজরদারিতে ২ হাজার ৪০০ মার্কিন সেনা

দীর্ঘদিন আটকে থাকায় নাবিকদের বেতন নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে অবস্থান করলেও অনেকেই পারিশ্রমিক পাবেন কিনা, তা পরিষ্কার নয়।

একজন হালধার বলেন, আমরা শুধু জীবিত ও নিরাপদে ফিরে যেতে চাই। এই সংঘাতের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই, তবুও আমরা যেন বন্দি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আটকে পড়া জাহাজগুলোর নাবিকদের সরিয়ে নিতে অন্তত তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: ওআই নেট গ্লোবাল

আরটিভি/এমএইচজে