শনিবার, ০২ মে ২০২৬ , ০২:১৮ পিএম
ভারতের মুম্বাইয়ে একটি পরিবারের চার সদস্যের আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে ব্যাপক রহস্য দানা বেঁধেছে। শুরুতে ‘সংক্রমিত তরমুজ’ খাওয়ার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে গুজব ছড়ালেও তদন্তে উঠে আসছে নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য।
শুক্রবার (১ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মৃতদের শরীরে মরফিনের মতো শক্তিশালী রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে মুম্বাইয়ের একটি পরিবার আত্মীয়দের নিয়ে নৈশভোজের আয়োজন করে, যেখানে মাটন পোলাও পরিবেশন করা হয়। অতিথিরা চলে যাওয়ার পর রাত ১টার দিকে পরিবারটি তরমুজ খায়। এরপর ভোর ৫টার দিকে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বমি ও ডায়রিয়ার মতো একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায়, যা প্রথমে খাদ্যে বিষক্রিয়া মনে করা হয়েছিল।
কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চারজনের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মৃতদের মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র ও অন্ত্রসহ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অঙ্গ সবুজাভ হয়ে গেছে, যা সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা যায় না। সবচেয়ে বড় মোড় আসে যখন আবদুল্লাহর শরীরে মরফিনের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এই ব্যথানাশকটি কোনো চিকিৎসার অংশ ছিল নাকি অন্য কোনো মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করেছে, পুলিশ এখন তা খতিয়ে দেখছে।
এদিকে মহারাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, তরমুজের মাধ্যমে মৃত্যু হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও মেলেনি। ওই রাতে উপস্থিত আত্মীয়রা পোলাও খেলেও অসুস্থ হননি, যা তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ বর্তমানে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে পরিবারের মানসিক অবস্থা এবং অন্য কোনো বাহ্যিক বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা তদন্ত করছে।
তদন্তকারীরা পরিবারের মানসিক চাপ বা অন্য কোনো কারণও খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি তরমুজে কোনো বিষাক্ত পদার্থ বা ভেজাল ছিল কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা এখনো চূড়ান্ত মতামত দেননি। চারজনের ভিসেরা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত এই রহস্যজনক মৃত্যুর সঠিক কারণ অনিশ্চিতই থেকে যাচ্ছে।
আরটিভি/এআর