রোববার, ০৩ মে ২০২৬ , ১১:০১ এএম
ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘ দুই বছরব্যাপী বর্বরোচিত হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা বর্তমানে এক বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এসব ধসে পড়া ভবনের নিচে এখনও অন্তত আট হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ এবং তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।
ইউএনডিপির ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গাজায় বর্তমানে যে পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ রয়েছে তার মাত্র এক শতাংশের কম এখন পর্যন্ত অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানের এই ধীরগতি অব্যাহত থাকলে পুরো উপত্যকার ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে অন্তত সাত বছর সময় লেগে যেতে পারে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া হাজার হাজার মরদেহের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে তাদের স্বজনরা, যাতে অন্তত শেষবারের মতো তাদের দাফন করা যায়।
ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ভারি সরঞ্জাম এবং কারিগরি সক্ষমতার চরম ঘাটতির কারণে উদ্ধারকাজ ও ধ্বংসস্তূপ অপসারণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে। ইসরায়েলের অব্যাহত অবরোধের ফলে এসব সরঞ্জাম উপত্যকায় প্রবেশ করতে পারছে না, যা মানবিক বিপর্যয়কে আরও ঘনীভূত করছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি চললেও ইসরায়েলি বাহিনী বারবার তা লঙ্ঘন করছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় নতুন করে আরও ৮২৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং দুই হাজার ৩৪২ জন আহত হয়েছেন। দুই বছরব্যাপী এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত মোট ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং এক লাখ ৭২ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের এই বিধ্বংসী অভিযানে গাজার বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও বসতবাড়ির চিহ্নও এখন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, ধ্বংসপ্রাপ্ত এই জনপদকে পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে বা পুনর্গঠন করতে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে।
আরটিভি/এআর