মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ , ১২:০২ পিএম
মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরাজয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় নতুন করে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফরের বিতর্কিত ঘটনা।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (সল্টলেক স্টেডিয়াম) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান ব্যাপক বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয়। টিকিট কেটে আসা হাজারো দর্শক অভিযোগ করেন, তারা স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারেননি কিংবা ভেতরে প্রবেশ করেও চরম অব্যবস্থাপনার মুখে পড়েন। ঘটনাটি দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং ‘ভিআইপি সংস্কৃতি’ নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, সাধারণ দর্শকদের তুলনায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তোলে। পরে আয়োজকের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপও নেওয়া হয়।
সোমবার (৪ মে) তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী পরাজয়ের পর এই ঘটনার প্রসঙ্গ আবারও সামনে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মেসির সেই সফরের অব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেন। কেউ কেউ দাবি করেন, ওই ঘটনার সময় তৈরি হওয়া ক্ষোভই পরে জনমতের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
ভারতের একজন ক্রীড়া ধারাভাষ্যকারও সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করে বলেন, সেই দিনের বিশৃঙ্খলা ও অসন্তোষ অনেকের মনে দীর্ঘদিনের ক্ষত তৈরি করেছিল, যা এখন আবার আলোচনায় ফিরে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মেসির সফরের ঘটনা সরাসরি নির্বাচনের ফল নির্ধারণ না করলেও শহুরে মধ্যবিত্ত ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে শাসকদলের প্রতি অসন্তোষ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে বড় আয়োজনের ব্যবস্থাপনা এবং জনসাধারণের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি প্রতীকী বিতর্কে পরিণত হয়েছে।
ফলে ক্রীড়াবিষয়ক একটি ব্যর্থ আয়োজন ধীরে ধীরে রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে ওঠে, এবং নির্বাচনী পরাজয়ের পর সেই পুরনো ঘটনা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে আসে।
আরটিভি/এসকে