মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ , ০১:৩৬ পিএম
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধাক্কা খেলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুর আসনে অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজয়ের পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে তিনি নির্বাচনকে ‘লুট’ ও ‘অনৈতিক নোংরা খেলা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টু ডে জানিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তার ফেসবুক পেজে মমতার সঙ্গে একটি ফোনালাপ প্রকাশ করেন। সেখানে মমতা ভবানীপুরের ফলাফলকে ‘চুরি করা রায়’ বলে অভিযোগ করেন।
ফোনালাপে মমতা দাবি করেন, ভোটগণনার ১৬তম রাউন্ড পর্যন্ত তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী-র চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। তবে শেষ দিকে ‘গুণ্ডাদের’ মাধ্যমে কাউন্টিং প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন দিল্লির নির্দেশে বিজেপির পক্ষে কাজ করেছে। তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টদের সরিয়ে দিয়ে বিরোধী পক্ষের লোক বসানো হয়েছে বলেও দাবি তার।
মমতার ভাষায়, শেষ রাউন্ডে তার দলের কোনও প্রতিনিধিই কাউন্টিং হলে ছিল না এবং ইভিএম মেশিন সঠিকভাবে সিল না করেই সরানো হয়েছে। এমনকি তাকে কাউন্টিং সেন্টারে ঢুকতেও বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরাজয়ের পর এনডিটিভিকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় মমতা বলেন, “লুট, লুট, লুট আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াবো।” তিনি নির্বাচন কমিশনকে ‘বিজেপির কমিশন’ বলেও মন্তব্য করেন এবং দাবি করেন, শতাধিক আসনে অনিয়ম হয়েছে।
ভবানীপুর আসনে তিনি প্রায় ১৫ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী-র কাছে। এর আগে ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামেও তার কাছে হেরেছিলেন মমতা।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ভোটার তালিকা হালনাগাদ একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ অস্বীকার করে তারা বলেছে, অযোগ্য বা মৃত ভোটারদের নামই কেবল বাদ দেওয়া হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ফলাফলের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করা হবে।
আরটিভি/এসকে