images

আন্তর্জাতিক / মধ্যপ্রাচ্য

ইরানে বেশ কয়েকটি জাহাজে ভয়াবহ আগুন

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ , ০৫:১৫ পিএম

হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাইয়্যার বন্দরের একটি ডকে নোঙর করে রাখা বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 

মঙ্গলবার(৫ মে) এই ঘটনা ঘটে।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে ফায়ার সার্ভিস। তবে ঠিক কী কারণে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে সে বিষয়ে প্রাথমিক অবস্থায় কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। খবর আল জাজিরার। 

বন্দরের ফায়ার সার্ভিস প্রধান মাজিদ ওমরানি আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট মেহর সংবাদ সংস্থাকে জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীরা কাজ করছেন। এ ঘটনায় আগুন লাগার কারণ এখনও জানা যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটলো যখন হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে বন্দরে রহস্যজনক এই আগুন আর অন্যদিকে সাগরে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সামরিক বাগবিতণ্ডা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। 

আরও পড়ুন
Trump

হরমুজে ট্রাম্পের ‘নতুন প্রকল্প’ ঘোষণা, সঙ্গে পূর্ণ শক্তি প্রয়োগের হুঁশিয়ারি

এদিকে ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর তৎপরতা এবং হামলা বেসামরিক মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। এরই মধ্যে মার্কিন হামলায় পাঁচ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। বন্দরে আগুনের ঘটনার পেছনে কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। 

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাতটি ‘ফাস্ট বোট’ বা দ্রুতগতির নৌযানে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র যেসব নৌযানে হামলা চালানোর কথা বলেছে, সেগুলো ইরানের বিশেষায়িত বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) নয় বলে দাবি করেছে তেহরান। তাদের ভাষ্য, নৌযানগুলো ছিল সাধারণ বেসামরিক মানুষের।

ইরান আরও দাবি করেছে, মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলো (যুদ্ধজাহাজ) তাদের রাডার বন্ধ রেখে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ইরানি নৌবাহিনী এ অঞ্চলে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখায় রাডার চালু করার সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলো ধরা পড়ে যায়।

শনাক্ত করার পর ইরানি নৌবাহিনী মার্কিন জাহাজগুলো লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গোলাবর্ষণ করে। সতর্কবার্তার অংশ হিসেবে কমব্যাট ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ব্যবহার করা হয়। ফলে মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলো ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

তেহরান স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, মার্কিন নৌবাহিনী যদি আবারও হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা করে, তবে তা যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে।

আরটিভি/এআর