মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ , ০৯:৫০ পিএম
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত হলেও আগামী ৯ মে পর্যন্ত পদে থাকতে পারছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৯৪ আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাড়ে ১৩ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে।
তবে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানানো হতে পারে। আগামী ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা মঙ্গলবার(৫ মে) কলকাতায় পৌঁছে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট বিজ্ঞপ্তি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করবেন। এরপর আগামীকাল ৬ মে রাজ্যপালকে চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে অবহিত করা হবে। এই আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর রাজ্যপাল বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদত্যাগের আহ্বান জানাবেন। তবে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ না নেওয়া পর্যন্ত দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার জন্য তাকে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে বলা হবে। ফলে নির্বাচনের ফলাফল বিপক্ষে গেলেও এখনই তাকে অফিস ছাড়তে হচ্ছে না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে আগামী ৯ মে পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তীকালীন পদে বহাল থাকতে পারবেন। এই সময়কালে তিনি নীতিগত বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে না পারলেও রুটিনমাফিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি করবেন। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ গ্রহণের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান মেয়াদের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ১৫ দিন থেকে এক মাসের মধ্যে তাকে কলকাতার কালীঘাটের সরকারি বাসভবন খালি করে দিতে হবে।
বিজেপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারা ৯ মে দিনটিকে রাজ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা হিসেবে পালন করতে চায়। এই দিনেই নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে এবং পশ্চিমবঙ্গের চার দশকের বেশি সময়ের বাম ও তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটবে। তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এই প্রস্থান হবে রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এখন ৯ মে পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে তিনি কীভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন সেটিই দেখার বিষয়।
আরটিভি/এআর