মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ , ১০:১১ পিএম
গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ এবং ভয়াবহ মানবিক সংকটের চিত্র তুলে ধরে এ বছরের সম্মানজনক পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছেন ফিলিস্তিনি আলোকচিত্রী সাহের আলঘোরা।
সোমবার (৫ মে ) সাংবাদিকতার নোবেল হিসেবে খ্যাত এই পুরস্কারের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে কাজ করা সাহের আলঘোরা ‘ব্রেকিং নিউজ’ বিভাগে এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। তার তোলা ছবিগুলোতে যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং গাজার সাধারণ মানুষের মানবেতর জীবনের বাস্তব চিত্র অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে ফুটে উঠেছে।
গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে ভূখণ্ডটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সাহেরের পুরস্কারজয়ী প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘ট্র্যাপড ইন গাজা: বিটুইন ফায়ার অ্যান্ড ফ্যামিন’ বা ‘গাজায় দুর্ভিক্ষ ও হামলার ফাঁদে আটকা পড়া’।
প্রতিবেদনটিতে ধ্বংসযজ্ঞ ও দুর্ভিক্ষের মধ্যে আটকা পড়া নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের অবর্ণনীয় দুর্দশা তুলে ধরা হয়েছে। পুলিৎজার প্যানেলের প্রশাসক মারজোরি মিলার সাহেরের এই কাজকে অত্যন্ত ‘মর্মান্তিক’ ও ‘সাহসী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
গাজা ইস্যু ছাড়াও বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিক এ বছর পুলিৎজার জিতেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক কার্যক্রমের ওপর প্রতিবেদন করে ‘ন্যাশনাল রিপোর্টিং’ বিভাগে পুরস্কার জিতেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এ ছাড়া শিশু ও কিশোর ব্যবহারকারীদের ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য রয়টার্স ‘বিট রিপোর্টিং’ বিভাগেও পুরস্কৃত হয়েছে। মেটা-র মতো বড় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে করা এই প্রতিবেদনটি এ বছর বিশেষ আলোচিত ছিল।
চলতি বছর নিউইয়র্ক টাইমস মোট তিনটি বিভাগে পুলিৎজার জয় করেছে। সাহের আলঘোরার ব্রেকিং নিউজ ক্যাটাগরির পুরস্কারটিও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া ওয়াশিংটন পোস্ট, এপিসহ আরও কয়েকটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম বিভিন্ন বিভাগে সম্মানজনক এই পুরস্কার লাভ করেছে। ১৯১৭ সাল থেকে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির একটি বোর্ড সাংবাদিকতা, সাহিত্য, সংগীত ও নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য প্রতিবছর এই পুরস্কার ঘোষণা করে আসছে।
মারজোরি মিলার বিজয়ীদের নাম ঘোষণার সময় বৈশ্বিক নানা বাধার মুখেও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সাহের আলঘোরার মতো সাংবাদিকরা যেভাবে তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখেছেন তা সাংবাদিকতা জগতের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত।
আরটিভি/এআর