শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬ , ০৪:৪৯ পিএম
দরজার বাইরে উত্তেজিত জনতার হুংকার, আর ঘরের ভেতরে প্রাণভয়ে কাঁপছে দুই চোর। জনতার এই মারমুখী আচরণ থেকে বাঁচতে শেষ পর্যন্ত পুলিশের শরণাপন্ন হলো দুই চোর।
ভারতের ওড়িশা রাজ্যের রাউরকেলায় গত ২৯ এপ্রিল ঘটেছে এই অবিশ্বাস্য ঘটনা। সচরাচর চোর ধরতে পুলিশ ফোন পেলেও, এবার খোদ চোররাই নিজেদের উদ্ধারের জন্য পুলিশকে কাতর আর্জি জানায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন একটি দোতলা বাড়িতে চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকেছিল ওই দুই যুবক। বাড়ির মালিকরা সে সময় বাসায় ছিলেন না। চোররা আলমারি ভেঙে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ব্যাগে ভরে ফেলে। কিন্তু ঘরের ভেতর খুটখাট শব্দ শুনে পাশের বাড়ির এক প্রতিবেশীর সন্দেহ হয়। তিনি দ্রুত আশপাশের লোকজনকে খবর দিলে মুহূর্তেই বাড়িটি ঘিরে ফেলে বিক্ষুব্ধ জনতা।
ভেতরে থাকা চোররা টের পায় যে বাইরে প্রচুর মানুষ জমা হয়েছে এবং তারা দরজা খোলার জন্য অপেক্ষা করছে। বাইরে জনতার মারমুখী চিৎকার শুনে প্রাণের ভয়ে কাঁপতে থাকে তারা। গণপিটুনির হাত থেকে বাঁচতে আর কোনো উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত পুলিশের জরুরি নম্বরে ফোন করে তারা। ফোনে তারা জানায়, জনতা তাদের ঘিরে রেখেছে এবং তাদের যেন দ্রুত উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়।
রাউরকেলা থানা-পুলিশ জানিয়েছে, ফোন পাওয়ার পরপরই একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, উত্তেজিত জনতা চোরদের ধরার জন্য ওত পেতে আছে। পরে পুলিশ সেই ভিড় ঠেলে ভেতরে ঢুকে দুই চোরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসে। তাদের কাছ থেকে চুরি করা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারও উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাড়ির বাসিন্দারা থানায় মামলা করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দুই চোরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, গণপিটুনি এড়াতে অপরাধীরা নিজেরাই পুলিশের সাহায্য চেয়েছে—এমন নজির সচরাচর দেখা যায় না।
আরটিভি/এআর