শনিবার, ০৯ মে ২০২৬ , ০৯:১৩ এএম
দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। আজ ৯ মে থেকে আগামী ১১ মে পর্যন্ত তিন দিনের জন্য এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। এই বিরতির আওতায় দুই দেশ তাদের দখলে থাকা মোট দুই হাজার যুদ্ধবন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর আল জাজিরার।
শুক্রবার (৮ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিশেষ ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প জানান, তার ব্যক্তিগত অনুরোধে সাড়া দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছেন।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে রাশিয়া এবং ইউক্রেন আগামী তিন দিন সব ধরনের হামলা-পাল্টা হামলা বন্ধ রাখবে। ৯ থেকে ১১ মে পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি পালিত হবে।
তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয়ের দিনটিকে সম্মান জানাতেই দুই দেশ এই সময়ে সম্মত হয়েছে।
প্রসনঙ্গত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন জয় করতে দেশটিতে প্রবেশ করেছিল জার্মানির তৎকালীন চ্যান্সেলর অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসী সেনাবাহিনী। তবে তারা ব্যর্থ হয় এবং ১৯৪৫ সালের ৮ মে সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে আত্মসমর্পণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। সেই থেকে ৮ মে-কে বিজয় দিবস হিসেবে উদযাপন করে রাশিয়া।
যুদ্ধবিরতির এই তিন দিনে পরস্পরকে লক্ষ্য করে সব ধরনের আক্রমণ রাশিয়া এবং ইউক্রেন বন্ধ রাখবে এবং প্রত্যেকে ১ হাজার করে যুদ্ধবন্দি মুক্তি দেবে— উল্লেখ করে ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, আমি আশা করছি, এই যুদ্ধবিরতি একটি অত্যন্ত দীর্ঘ, প্রাণঘাতী এবং কঠিন লড়াইয়ের অবসানের সূচনা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি সবচেয়ে বড় যুদ্ধ এবং এ যুদ্ধ শেষ করতে আমাদের আলোচনা অব্যাহত আছে। আমরা প্রতিদিন এই যুদ্ধ সমাপ্তির আরও কাছাকাছি আসছি। এ বিষয়ে মনোযোগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত মিনস্ক চুক্তির শর্ত মেনে কৃষ্ণ সাগরের উপদ্বীপ ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য ইউক্রেনের তদ্বিরের জেরে কয়েক বছর ধরে টানাপোড়েন চলার পর ২০২২ সালে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। গত চার বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই অভিযান চলছে।
আরটিভি/এআর