শনিবার, ০৯ মে ২০২৬ , ০৭:৫৮ পিএম
চীনের কুয়াংসি অঞ্চলের ন্যাশনাল নেচার রিজার্ভে বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত বিরল এক ক্ষুদ্রাকার সাপের সন্ধান পেয়েছেন। অদ্ভুত আত্মরক্ষামূলক আচরণের কারণে স্থানীয়ভাবে এটি ‘দুই মাথা’ বিশিষ্ট সাপ নামে পরিচিতি পেয়েছে। নতুন এই প্রজাতি নিয়ে গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জার্নাল জুসিস্টেমেটিকস অ্যান্ড ইভোলিউশন প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণাটি পরিচালনা করে কুয়াংসি ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের একটি গবেষক দল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭৬০ মিটার উচ্চতার একটি বনাঞ্চলে মাঠ পর্যায়ের জরিপ চলাকালে সাপটির প্রথম দেখা মেলে। পরে শারীরিক গঠন বিশ্লেষণ এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে এটি একটি নতুন প্রজাতি হিসেবে নিশ্চিত করেন গবেষকরা।
গবেষণায় জানা গেছে, এই সাপটি মাত্র ২২ সেন্টিমিটার লম্বা এবং বিষহীন। এর বাদামি দেহের ওপর সাতটি কালো ডোরাকাটা দাগ রয়েছে, যা আঁশের গঠনের কারণে জালিকা সদৃশ নকশা তৈরি করে।
সাপটি সাধারণত মাটির নিচে বা পাতার স্তূপে বসবাস করে এবং কেঁচো ও পোকামাকড়ের লার্ভা খেয়ে জীবনধারণ করে। এটি শান্ত স্বভাবের, ধীরগতিসম্পন্ন এবং নিশাচর প্রাণী।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো এর আত্মরক্ষার কৌশল। কোনো বিপদ অনুভব করলে এটি শরীরকে ইংরেজি ‘৮’ সংখ্যার মতো পেঁচিয়ে ফেলে এবং লেজকে মাথার মতো উঁচিয়ে ধরে। এতে শিকারি প্রাণী বিভ্রান্ত হয়ে লেজকে মাথা ভেবে আক্রমণ করে, ফলে সাপটি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই কৌশলের কারণেই একে স্থানীয়ভাবে ‘দুই মাথা’ সাপ বলা হচ্ছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, একই সংরক্ষিত এলাকায় চলতি বছরে এটি দ্বিতীয় নতুন প্রজাতির সন্ধান। এর আগে এখান থেকে ‘হুয়াপিং লিফ লিটার টোড’ নামের একটি ব্যাঙ আবিষ্কৃত হয়েছিল, যা ছিল বিশ্বের ৯ হাজারতম নথিভুক্ত উভচর প্রজাতি।
নতুন এই আবিষ্কার জীববৈচিত্র্য গবেষণায় কুয়াংসি অঞ্চলের গুরুত্ব আরও একবার তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
তথ্য: সিনহুয়া
আরটিভি/এসকে