সোমবার, ১১ মে ২০২৬ , ০৯:১০ এএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা নিরসনে নতুন করে যে শান্তি আলোচনার আশা তৈরি হয়েছিল, তা বড় ধাক্কা খেয়েছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো ইরানের জবাবকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, আমি এটা পছন্দ করছি না, পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এর পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় প্রভাব পড়ে। সমঝোতার সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় প্রতি ব্যারেল তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার বেড়ে যায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান যুদ্ধের সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে। বিশেষ করে লেবাননের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি ইরান। দেশটি যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্বের বিষয়টিও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে আর হামলা না করার নিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানি তেল রপ্তানির ওপর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ছিল আগে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং পরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য জটিল ইস্যু নিয়ে আলোচনা শুরু করা। কিন্তু ইরান যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালি এবং ক্ষতিপূরণের বিষয়গুলো একসঙ্গে আলোচনায় আনতে চাওয়ায় সমঝোতার পথ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ কম ঘনত্বে নামিয়ে আনা এবং বাকি অংশ তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত নিশ্চিত করেনি কোনো পক্ষ।
চলমান এই সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। দেশটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের জবাব ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
আরটিভি/এসকে