সোমবার, ১১ মে ২০২৬ , ১১:৪৯ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির অভাবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কিছুটা কমেছে। একইসঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার আশঙ্কাও বাড়ছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১১ মে) স্পট মার্কেটে সোনার দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৭৮.৩৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনা ফিউচারও ০.৯ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৮৬.২০ ডলারে নেমেছে। ডলারের শক্তিশালী অবস্থান অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনাকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে।
বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি না থাকায় অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বাড়ছে, যার চাপ সোনার বাজারেও পড়ছে।
ইরান ও লেবাননে চলমান সংঘাতে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ব্যাহত হয়েছে, ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এতে তেলের দাম বেড়ে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত সোনাকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হলেও, উচ্চ সুদের হার এই ধাতুর আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন আসন্ন মার্কিন ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) প্রকাশের দিকে নজর রাখছেন।
চীনের বাজারেও সোনা উৎপাদন কমেছে। চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে নিরাপত্তা পরিদর্শনের কারণে কিছু খনি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সোনার দাম ৪,৪০০ থেকে ৪,৮০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
অন্য ধাতব বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮০.৬১ ডলারে উঠেছে। তবে প্লাটিনামের দাম ০.৭ শতাংশ কমে ২,০৪১.৬৬ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ১,৪৮২.৪৬ ডলারে নেমেছে।
আরটিভি/এসকে