images

আন্তর্জাতিক

পাত্র-পাত্রীর খোঁজে চীনের যে বাজারে অভিভাবকদের ভিড়

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ , ০৬:৫৪ পিএম

প্রতি সপ্তাহে শনিবারের পড়ন্ত বিকেলে সাংহাইয়ের বিখ্যাত ‘পিপলস পার্ক’-এ জড়ো হন শতশত মানুষ। তবে এই ভিড় সাধারণ কোনো পর্যটক বা ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য নয়। পার্কের চারদিকে সারি সারি ঝুলে আছে কয়েকশ জীবনবৃত্তান্ত বা ‘বায়োডাটা’। 

সেখানে লেখা আছে বয়স, উচ্চতা, বেতন, পেশা, এমনকি নিজের ফ্ল্যাট বা গাড়ি আছে কি না তার বিস্তারিত বিবরণ। প্রথম দেখায় কোনো চাকরির বাজার মনে হলেও, এটি আসলে চীনের ঐতিহ্যবাহী এবং বিতর্কিত এক ‘বিয়ের বাজার’ বা ম্যারেজ মার্কেট।

আরও পড়ুন
gold

দেশে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

এই বাজারের সবচেয়ে অদ্ভুত দিক হলো, যাদের বিয়ের আলোচনা হচ্ছে, সেই তরুণ-তরুণীদের কাউকেই সেখানে দেখা যায় না। তাদের হয়ে মাঠে নেমেছেন বাবা-মায়েরা। 

অপরিচিত অভিভাবকরা একে অন্যের সাথে কথা বলছেন, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ছেন ঝুলে থাকা কাগজগুলো। প্রশ্ন উঠছে— মেয়েটি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে? বা ছেলের চাকরিটা স্থায়ী তো? সব ব্যাটে-বলে মিলে গেলে তবেই বিনিময় হচ্ছে ফোন নম্বর।

1719226608_4

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, চীনের দ্রুত বদলে যাওয়া সামাজিক প্রেক্ষাপটই এই বাজারের জন্ম দিয়েছে। এক-সন্তান নীতির কারণে অনেক পরিবার তাদের সব স্বপ্ন ও সঞ্চয় একটি সন্তানের ওপর বিনিয়োগ করেছেন। আগে আত্মীয়স্বজনরা বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে আসলেও, বর্তমানের যান্ত্রিক নগরজীবনে মানুষ অনেক বেশি একাকী। 

1719226443_1

বড় শহরে সামাজিকতার জায়গা দখল করেছে ব্যস্ততা। ফলে সন্তানের একাকীত্ব ঘোচাতে বাবা-মায়েরাই শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। অনেক বাবা-মা জানেন যে তাদের এই প্রচেষ্টা সন্তান হয়তো মেনে নেবে না, তবুও তারা প্রতি সপ্তাহে এখানে আসেন কেবল একটু আশার খোঁজে।

1719226624_5

পশ্চিমা বিশ্বে সাধারণত আগে প্রেম ও আবেগ তৈরি হয়, তারপর আসে বাস্তব জীবনের হিসাব-নিকাশ। কিন্তু চীনের এই ম্যারেজ মার্কেটে সমীকরণটি সম্পূর্ণ উল্টো—এখানে শুরুটাই হয় কঠোর বাস্তবতা দিয়ে। আয়, সম্পদ এবং সামাজিক অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরেই কেবল আবেগের স্থান হয়।

শেষ পর্যন্ত, এই ম্যারেজ মার্কেট শুধু বিয়ে ঠিক করার জায়গা নয়; বরং আধুনিক জীবনের অনিশ্চয়তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার একটা উপায়। এখানে ঐতিহ্য আর আধুনিকতা পাশাপাশি অপেক্ষা করে-কোন ধরনের ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে তা দেখার জন্য।

আরটিভি/এসআর