বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ , ০৯:১৮ পিএম
ভারতের মহারাষ্ট্রের বুলধানা জেলায় একটি ক্ষেত থেকে অর্ধদগ্ধ এক তরুণীর কাটা মাথা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক বিরোধ ও ‘অনার কিলিং’এর অভিযোগ উঠে এসেছে, যেখানে নিহত তরুণীর বাবা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ২৬ এপ্রিল বুলধানা জেলার একটি মাঠে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ধড় থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা, আংশিক দগ্ধ দেহ এবং পাশেই ছড়িয়ে থাকা মরদেহের অংশ উদ্ধার করে। ঘটনার ভয়াবহতায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর বুলধানার পুলিশ সুপার নীলেশ তাম্বে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেন। ক্রাইম ব্রাঞ্চের নেতৃত্বে পুলিশ মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন জেলা এবং পার্শ্ববর্তী মধ্যপ্রদেশে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই শুরু করে।
প্রায় ১২ দিনের তদন্ত শেষে ১ মে মধ্যপ্রদেশের বুরহানপুর জেলার খাকনার থানায় দায়ের হওয়া একটি নিখোঁজ ডায়েরির সূত্র ধরে পুলিশ অগ্রগতি পায়। সেখানে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি তার ২৪ বছর বয়সী মেয়ে নিখোঁজ বলে অভিযোগ করেছিলেন।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযোগকারী বাবা স্বীকার করেন, তিনিই তার মেয়েকে হত্যা করেছেন। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধ ও একটি সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ক্ষোভের জেরে তিনি বাঁশ দিয়ে আঘাত করে মেয়েকে হত্যা করেন।
এরপর বাবার সঙ্গে তার ছেলে মিলে মরদেহটি মহারাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেন। দেহের অংশ বিচ্ছিন্ন করে আগুনে পোড়ানোর চেষ্টা করা হলেও তা পুরোপুরি সফল হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও প্রমাণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলমান রয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
আরটিভি/এসকে