শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ , ০৪:৪০ পিএম
থাইল্যান্ডে দানবাকৃতির বিশাল এক নতুন প্রজাতির ডাইনোসরের জীবাশ্মের খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। খননকার্যের মাধ্যমে শনাক্ত করা এই প্রাণীর ওজন প্রায় নয়টি পূর্ণবয়স্ক হাতির সমান ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’-এ এই আবিষ্কারের তথ্য প্রকাশিত হয়।
শুক্রবার (১৫ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
গবেষকদের মতে, ‘নাগাটাইটান চাইয়াফুমেনসিস’ নামের এই প্রাণীটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আবিষ্কৃত এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরিচিত ডাইনোসর। এটি মূলত সোরোপড গোত্রের সদস্য ছিল। লম্বা গলা ও লেজ, ছোট মাথা এবং চারটি স্তম্ভের মতো শক্ত পা ছিল এই ডাইনোসরের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, তৃণভোজী এই ডাইনোসরটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৭ মিটার এবং ওজন ছিল প্রায় ২৭ টন। গবেষকদের ধারণা, প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি বছর আগে ডাইনোসরটি বর্তমান থাইল্যান্ড অঞ্চলে বিচরণ করত। যদিও এর মাথা ও দাঁতের জীবাশ্ম পাওয়া যায়নি, তবে অন্যান্য সোরোপডের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষণার প্রধান লেখক ও ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক থিতিওয়ুত সেথাপানিচসাকুল জানান, নাগাটাইটান সম্ভবত প্রচুর পরিমাণে গাছপালা খেত। এর খাদ্যতালিকায় ছিল কনিফারজাতীয় উদ্ভিদ ও সিড ফার্ন। তিনি এই ডাইনোসরটিকে ‘দ্য লাস্ট টাইটান’ বা ‘শেষ দৈত্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কারণ, থাইল্যান্ডের যে শিলাস্তরে এটি পাওয়া গেছে, তা দেশটিতে ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম নবীন স্তর।
উল্লেখ্য, নাগাটাইটানরা সোরোপডদের একটি উপগোষ্ঠীর সদস্য ছিল, যাদের উৎপত্তি হয়েছিল প্রায় ১৪ কোটি বছর আগে। তারা পৃথিবীতে ডাইনোসর যুগের অবসান হওয়ার আগ পর্যন্ত টিকে ছিল। এই বিশাল প্রাণীর প্রথম হাড়ের ধ্বংসাবশেষ প্রায় এক দশক আগে উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডে স্থানীয় লোকজন খুঁজে পেয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালে এর পূর্ণাঙ্গ খননকার্য শেষ হয়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কার এশিয়ায় ডাইনোসরের বিবর্তন ও ইতিহাস বুঝতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
আরটিভি/এআর