সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ , ০১:০৮ পিএম
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার বিয়ে, তালাক এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে সংক্রান্ত নতুন একটি পারিবারিক আইন জারি করেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
৩১ অনুচ্ছেদবিশিষ্ট এই অধ্যাদেশের নাম দেওয়া হয়েছে “স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদসংক্রান্ত নীতিমালা।” তালেবান প্রধান হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার অনুমোদনের পর এটি সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয় বলে জানিয়েছে নির্বাসিত আফগান সাংবাদিকদের পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আমু টিভি।
নতুন আইনের একটি বিতর্কিত ধারা অনুযায়ী, কোনো কুমারী নারী বিয়ের প্রস্তাবে নীরব থাকলে সেটিকে সম্মতি হিসেবে ধরা হবে। তবে আগে বিবাহিত নারী বা পুরুষদের ক্ষেত্রে নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে গণ্য করা হবে না।
এছাড়া আইনে কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়েকেও বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বাবা ও দাদাকে এ ধরনের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, পাত্র সামাজিকভাবে উপযুক্ত হতে হবে এবং দেনমোহর ধর্মীয় মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।
আইনে আরও বলা হয়েছে, বয়ঃসন্ধিকাল অতিক্রম করার পর কেউ চাইলে তার শৈশবে সম্পন্ন হওয়া বিয়ে বাতিলের আবেদন করতে পারবে। তবে সে ক্ষেত্রে ধর্মীয় আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
এছাড়া ব্যভিচার, ধর্মত্যাগ, স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং জিহার সংক্রান্ত বিষয়ে বিচারকদের হস্তক্ষেপ ও শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতাও রাখা হয়েছে।
২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে তালেবান নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও চলাচলের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে। এতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনার মুখে পড়েছে গোষ্ঠীটি।
ইতিমধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের শিক্ষা নিষিদ্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের প্রবেশ বন্ধ এবং কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধতার মতো পদক্ষেপও বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে ইসলামি আইনব্যাখ্যার প্রসঙ্গ তুলে সমর্থকেরা বলছেন, বিয়েতে নারীর সম্মতি থাকা বাধ্যতামূলক এবং নীরবতাকে কিছু ক্ষেত্রে সম্মতির প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যদিও জোরপূর্বক বিয়ে গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিভিন্ন ইসলামি ব্যাখ্যায় উল্লেখ রয়েছে।
সূত্র : এনডিটিভি
আরটিভি/এসকে