images

আন্তর্জাতিক / মধ্যপ্রাচ্য

নতুন প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রকে যেসব শর্ত দিয়েছে ইরান

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ০৫:৩১ পিএম

লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন করে একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে এই যুদ্ধবিরতির জন্য ওয়াশিংটনের সামনে বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান। 

মঙ্গলবার (১৯ মে) ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি আনুষ্ঠানিকভাবে এই শর্তগুলো প্রকাশ করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, নতুন এই প্রস্তাবে তারা শর্ত দিয়েছেন যে লেবাননসহ সব কটি ফ্রন্টে একসঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের কাছাকাছি অঞ্চলে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সব সেনাকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিতে হবে। এ ছাড়া চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করেছে, সেগুলো সংস্কার বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার শর্তও যুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
Web-Image

সৌদিতে ৮ হাজার সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন পাকিস্তানের

এর বাইরে ইরানের ওপর বহাল থাকা সব ধরনের মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিভিন্ন দেশে জব্দ করে রাখা ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা অবমুক্ত করা এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টিও এই শান্তি প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অবশ্য এর আগে ইরানের দেওয়া একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে ‘আবর্জনা’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের পূর্ববর্তী সেই প্রস্তাবের সঙ্গে নতুন এই প্রস্তাবের বড় বা উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ফলে মার্কিন প্রশাসন এই প্রস্তাবকে কীভাবে নেবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

এদিকে, গতকাল সোমবার (১৮ মে) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। 

তিনি বলেন, মঙ্গলবারই ইরানে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক হামলা শুরুর একটি পরিকল্পনা ছিল ওয়াশিংটনের। তবে মধ্যপ্রাচ্যের তিন বন্ধু রাষ্ট্র সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শীর্ষ নেতাদের বিশেষ অনুরোধে তিনি শেষ মুহূর্তে এই হামলা চালানো থেকে বিরত থেকেছেন।

একই পোস্টে ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন যে শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ইরানের এই নতুন শর্তের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা কতটুকু প্রশমিত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আরটিভি/এআর