images

আন্তর্জাতিক / ভারত

বিজেপিকে হারাল জেন-জিদের নতুন আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ , ০৯:৩৮ পিএম

বেকারত্ব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মূলধারার রাজনীতি আর ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের হতাশা—সবকিছুকে এক সুতোয় বেঁধে ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল ঝড় তুলেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ নামের একটি ব্যঙ্গধর্মী প্ল্যাটফর্ম।

ভারতীয় জেন-জি তথা তরুণ প্রজন্মের এই ব্যতিক্রমী অনলাইন আন্দোলন মাত্র ৫ দিনের মাথায় ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যায় দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে।

বর্তমানে সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি (১৩.৯ মিলিয়ন)। অন্যদিকে বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের অনুসারী সংখ্যা ৯০ লাখের কম (৮.৮ মিলিয়ন)। একটি মুঠোফোনের ওপর তেলাপোকার লোগো ব্যবহার করা সিজেপি নিজেদের মূলত অলস ও বেকার তরুণদের কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সম্প্রতি একটি শুনানিতে বেকার তরুণদের একাংশকে ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেন। এই মন্তব্য ঘিরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের জন্ম হয়। যদিও পরে প্রধান বিচারপতি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি সাধারণ তরুণদের নয়, বরং ভুয়া ডিগ্রিধারী ও প্রতারকদের বোঝাতে ওই মন্তব্য করেছিলেন। তবে ততক্ষণে সেই ক্ষোভকে পুঁজি করে জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অবস্থানরত এবং পাবলিক রিলেশনস নিয়ে পড়াশোনা শেষ করা অভিজিৎ বলেন, ‘এটি ভারতের রাজনৈতিক ভাষ্য বদলে দেওয়ার একটি প্রতীকী আন্দোলন। দেশের তরুণরা মূলধারার রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছে। কেউ আমাদের প্রকৃত সমস্যাগুলো শুনতে চাইছে না।’

আরও পড়ুন
17

সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে পাকিস্তানের কাছে হেরেছে ভারত

সিজেপির ইনস্টাগ্রাম পেজে তরুণদের তৈরি নানা ধরনের ভিডিও, মিম ও গ্রাফিক্স প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব কনটেন্টে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সংসদে নারীদের জন্য অর্ধেক আসন সংরক্ষণ, শিক্ষা সংকট, বেকারত্ব ও আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতির মতো গুরুতর বিষয়গুলো ব্যঙ্গের ছলে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ভারতের জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় প্রায় ২৩ লাখ শিক্ষার্থীর মনে যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা-ও তুলে ধরেছে এই প্ল্যাটফর্মটি।

চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক জরিপে দেখা গেছে, ভারতের জেন-জি প্রজন্ম (১৯৯৫ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া তরুণ) মারাত্মক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, অর্থনৈতিক চাপের কারণে ভারতের ৫৪ শতাংশ জেন-জি তরুণ বাড়ি কেনার মতো বড় সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন। ভারত বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ, যেখানে প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিক বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ১ শতাংশ হলেও ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে তা প্রায় ১০ শতাংশ।

অভিজিৎ দীপকে অবশ্য বাংলাদেশ বা নেপালের সাম্প্রতিক আন্দোলনের মতো নিজেদের কোনো সহিংস বা সরকারবিরোধী চরমপন্থী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দাঁড় করাতে নারাজ। তার ভাষায়, ‘এটি হয়তো ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নিতে পারে, তবে যা-ই হবে, সবকিছু হবে সম্পূর্ণ সাংবিধানিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে।’

প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুগল ফরমের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৪ লাখের বেশি মানুষ সিজেপিতে যোগ দেওয়ার আবেদন করেছেন, যাদের ৭০ শতাংশেরই বয়স ১৯ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। দলটির সদস্য হওয়ার জন্য ব্যঙ্গাত্মক ৪টি যোগ্যতাও নির্ধারণ করা হয়েছে—আবেদনকারীকে বেকার হতে হবে, অলস হতে হবে, সারাক্ষণ অনলাইনে থাকতে হবে এবং পেশাদারভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করতে জানতে হবে।

লখনউয়ের ২৬ বছর বয়সী সিদ্ধার্থ কানৌজিয়া, যিনি ইতোমধ্যে সিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তিনি বলেন, ‘এই দেশে তরুণদের কথা কেউ শোনে না, ভালো চাকরিও নেই। সিজেপি অন্তত আমাদের হয়ে কথা বলছে। আর তেলাপোকার লোগোটি হলো টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতীক; একে সহজে ধ্বংস করা যায় না, সব বাধা পেরিয়ে এটি আবার ফিরে আসে।’

আরটিভি/এআর