শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ , ০৮:৫২ পিএম
চীন নির্মাণ করছে শতকের অন্যতম বৃহৎ মেগা প্রকল্প ‘পিংলু খাল’, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে দেশটির বাণিজ্যিক যোগাযোগে নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। এ তথ্য প্রকাশ করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
প্রায় ১০.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত ১৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল বর্তমানে নির্মাণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী সেপ্টেম্বরেই পরীক্ষামূলকভাবে নৌযান চলাচল শুরু হবে, যা নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন মাস আগেই চালু হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রথম পর্যায়ে খালটি চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংসি অঞ্চলের রাজধানী নাননিংয়ের সঙ্গে হাইনান দ্বীপের মুক্ত বাণিজ্য বন্দরকে সরাসরি যুক্ত করবে। এর মাধ্যমে চীনের অভ্যন্তরীণ নদীপথ সরাসরি বেইবু উপসাগর বা গালফ অব টনকিনের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পিংলু খাল চালু হলে চীনের পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে পণ্য পরিবহনের দূরত্ব প্রায় ৫৬০ কিলোমিটার কমে যাবে। ফলে পরিবহন ব্যয় ১৮ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে এবং বছরে প্রায় ৬৯০ মিলিয়ন ডলার লজিস্টিক খরচ সাশ্রয় হবে।
এতদিন চীনের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলগুলোর পণ্য সমুদ্রে পাঠাতে গুয়াংডং প্রদেশের বন্দর ঘুরে যেতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। নতুন এই খাল চালু হলে সেই জটিলতা অনেকটাই দূর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বাণিজ্য দ্রুত বাড়ছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি কমলেও আসিয়ান অঞ্চলে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই বাজারকে আরও শক্তিশালী করতেই চীন এই খালকে কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে দেখছে।
১০ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মালবাহী জাহাজ চলাচলের উপযোগী করে নির্মিত পিংলু খালকে গত ৫০ বছরের মধ্যে চীনের সবচেয়ে বড় ‘নদী থেকে সমুদ্র’ সংযোগকারী খাল প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ধারণা করা হচ্ছে, আগামী সেপ্টেম্বর নাননিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য চীন-আসিয়ান এক্সপো চলাকালেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই খালের উদ্বোধন করা হতে পারে।
আরটিভি/এসকে