শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ , ০৮:৫১ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশিরা এখন থেকে গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে চাইলে তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরে গিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা ইউএসসিআইএস এই নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে।
শুক্রবার (২২ মে) প্রকাশিত এক নীতিগত স্মারকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। খবর রয়টার্সের।
ইউএসসিআইএস-এর তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কোনো বিদেশি যদি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পেতে চান, তবে তাকে নিজ দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে থেকে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের সুযোগ আর থাকছে না।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, নতুন এই নীতির ফলে অভিবাসন ব্যবস্থায় থাকা দীর্ঘদিনের ‘ফাঁকফোকর’ বন্ধ হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য বৈধ আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে সংস্থার সক্ষমতা বাড়বে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো ব্যতিক্রমী ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকবে কি না, তা কেসভিত্তিক বা পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখা হবে বলে জানানো হয়।
এদিকে মানবাধিকার ও শরণার্থী সহায়তাকারী সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। শরণার্থী ও অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা এইচআইএএস বলেছে, নতুন এই নিয়মের কারণে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি, নির্যাতিত নারী ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের এমন দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে, যেখান থেকে তারা মূলত জীবন বাঁচাতে পালিয়ে এসেছিল। এর ফলে বহু মানুষ নতুন করে চরম নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়বেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন আইন কঠোর করার ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই এই নীতি পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভিসার মেয়াদ কমানোর উদ্যোগ নেয়। এ ছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
আরটিভি/এআর