শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ , ০৯:৫৮ এএম
Failed to load the video
আবর্জনার স্তূপের মধ্যে খাবার খুঁজছে একদল ক্ষুধার্ত কুকুর। কারও শরীরে ক্ষত, কেউ আবার দুর্বল হয়ে পড়েছে পানির অভাবে। এমন কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই বেঁচে আছে ৫০ হাজারেরও বেশি পথকুকুর। তবে চিন্তার বিষয় হলো, প্রতিদিনই বাড়ছে কুকুরের সংখ্যা। আর সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে খাবারের অভাব, আশ্রয়কেন্দ্রের সংকট, সীমান্ত পেরিয়ে কুকুর চলে আসার কারণে। তাই এবার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে পথকুকুর পেলেই ধরে এনে বন্ধ্যা করার উদ্যোগ।
সার্বিয়া সীমান্তঘেঁষা ইউরোপের ছোট্ট এই শহরে এখন চলছে পথকুকুর ধরার বিশেষ অভিযান। তাই তো একদল স্বেচ্ছাসেবক ও পশুচিকিৎসক দূর থেকে অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগ করছে পথকুকুরগুলোকে। এরপর স্ট্রেচারে তুলে নেওয়া হচ্ছে ভেটেরিনারি অ্যাম্বুলেন্সে। সেখানে চলছে বন্ধ্যাকরণ, টিকাদান আর চিকিৎসা।
ইউরোপের বলকান অঞ্চলের পোডুজেভো শহরে দীর্ঘদিন ধরেই পথকুকুরের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে শহরের আবর্জনার ভাগাড়গুলোতেই সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এসব কুকুরকে। কেউ খাবারের খোঁজে সেখানে আসে, আবার অনেক কুকুরকে মালিকরাই ফেলে রেখে যান ওই এলাকাগুলোতে। এসব কুকুরের বেশিরভাগই থাকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। এমন পরিস্থিতিতে পথকুকুর হত্যা না করে মানবিক উপায়ে সংকট মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক প্রাণী অধিকার সংগঠন “ফোর পজ”।
এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত পশুচিকিৎসক আলবাট্রিত হালিলি জানান, পথকুকুর নিয়ন্ত্রণে এটিই সবচেয়ে কার্যকর ও মানবিক পদ্ধতি। কারণ হত্যা করলে সাময়িকভাবে সংখ্যা কমলেও কিছুদিন পর আবার নতুন কুকুর এসে দখল করে নেয় সেই জায়গা।
অন্যদিকে স্থানীয় মেয়র জানিয়েছেন, সার্বিয়ার সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় এই শহরে সীমান্তের দুই পাশের কুকুর অবাধে ঘুরে। ফলে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা প্রায় অসম্ভব। তাই নিয়মিত বন্ধ্যাকরণ ও টিকাদান চালিয়ে গেলে ভবিষ্যতে অন্তত পথকুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। আর একই সঙ্গে কমবে রোগব্যাধির সংক্রমণ।
আরটিভি/এআর