images

আন্তর্জাতিক

এই নদীটির নাম ‘লোহিত’, যা রক্তের নদী নামে পরিচিত

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ , ০২:২১ পিএম

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অরুণাচল প্রদেশের গহিন পাহাড়ি উপত্যকায় বয়ে চলা রহস্যময় লোহিত নদী প্রথম দেখাতেই যে কাউকে বিস্মিত করবে। ঋতুভেদে এই নদীর পানি ধারণ করে ইটের মতো লাল কিংবা লালচে-কমলা রঙ। এ কারণেই ভারতের ভূগোলে নাটকীয় নামের নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম এই নদী পরিচিত ‘রক্তের নদী’ হিসেবে।

লোহিত নদীর নামকরণের পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ও পৌরাণিক দুই ধরনের ব্যাখ্যা। ভূতাত্ত্বিকদের মতে, লোহিত উপত্যকা ও মিশমি পাহাড়ের মাটিতে প্রচুর পরিমাণে লৌহ বা আয়রন রয়েছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি পাহাড়ি মাটি ভেঙে নদীতে মিশে গেলে পানির রঙ মরচে ধরা লাল বা রক্তিম আভা ধারণ করে।

অন্যদিকে হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, পরশুরাম তার পিতা জমদগ্নির আদেশে মা রেণুকাকে হত্যা করেছিলেন। পরে মাতৃহত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে তিনি লোহিত নদীর তীরে অবস্থিত পবিত্র পরশুরাম কুণ্ড-এ স্নান করেন। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, সেই রক্তের স্মৃতিই নদীর পানিকে লাল রঙ দিয়েছে।

জীববৈচিত্র্যে ভরপুর লোহিত উপত্যকা উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের কাছেও এক স্বর্গরাজ্য। এখানে আলপাইন উদ্ভিদ থেকে শুরু করে ট্রপিক্যাল রেইনফরেস্ট সব ধরনের উদ্ভিদের দেখা মেলে।

নদীটির উৎপত্তি পূর্ব তিব্বতের জায়াল ছু পর্বতমালা থেকে। পরে এটি অরুণাচল প্রদেশের আনজাও জেলা হয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে আসামের সমভূমিতে গিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ-এর সঙ্গে মিলিত হয়।

লোহিত নদীর তীরজুড়ে বসবাস করে মিশমি, খামতি ও সিংফো সম্প্রদায়ের মানুষ। ফলে এখানে তিব্বতি প্রকৃতিপূজা, থেরবাদ বৌদ্ধ ধর্ম ও সনাতন হিন্দু সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন দেখা যায়।

পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান হলো পরশুরাম কুণ্ড। প্রতি বছর মকর সংক্রান্তির সময় হাজার হাজার পুণ্যার্থী এখানে পবিত্র স্নান করতে আসেন। এছাড়া ইন্দো-চীন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত প্রত্যন্ত গ্রাম ওয়ালং ভ্রমণপিপাসুদের জন্য আরেকটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। তেজপুর থেকে ওয়ালং যাওয়ার পথজুড়ে রয়েছে ঘন জঙ্গল, ঝুলন্ত সেতু ও লোহিত নদীর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।

ভ্রমণের জন্য অক্টোবর থেকে এপ্রিল সময়টিকে সবচেয়ে উপযুক্ত ধরা হয়। বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের কারণে এই অঞ্চলে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অরুণাচল প্রদেশে প্রবেশের জন্য ভারতীয় নাগরিকদের ইনার লাইন পারমিট এবং বিদেশি পর্যটকদের প্রটেক্টেড এরিয়া পারমিট নেওয়া বাধ্যতামূলক।

দুর্গম এলাকা হওয়ায় এখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল এবং খাবারের বিকল্পও সীমিত। তবে যারা প্রকৃতি, ইতিহাস ও লোককথার মিশেলে ভারতের এক ভিন্ন রূপ দেখতে চান, তাদের জন্য লোহিত নদী হতে পারে এক অনন্য অভিজ্ঞতার নাম।

সূত্র: এনডিটিভি

আরটিভি/এসকে