images

আন্তর্জাতিক / বিশেষ প্রতিবেদন

বিশ্বে কি আবার ফিরছে ‘জঙ্গলের আইন’!  

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ , ০৩:২৬ পিএম

Failed to load the video

বিশ্ব রাজনীতি কি তবে আবারও ফিরে যাচ্ছে শক্তির খেলায়? যেখানে আইন নয়, সিদ্ধান্ত নেবে সামরিক ক্ষমতা? যেখানে ছোট দেশগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করবে বড় শক্তিগুলো? চীন ও রাশিয়া এবার ঠিক সেই আশঙ্কার কথাই বলছে। বেইজিংয়ে বৈঠকের পর এক যৌথ ঘোষণায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সতর্ক করেছেন, বিশ্ব আবার “জঙ্গলের আইনে” ফিরে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

যদিও তারা সরাসরি কোনো দেশের নাম বলেননি, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মূল ইঙ্গিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন “গোল্ডেন ডোম” ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্প নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে বেইজিং ও মস্কো। এই প্রকল্পকে তারা বলছে, বৈশ্বিক কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। 

বার্তাসংস্থা রয়টার্স এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।

বেইজিংয়ের বিখ্যাত “গ্রেট হল অব দ্য পিপল”-এ হওয়া এই বৈঠক ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ মাত্র ছয় দিন আগেই একই জায়গায় বসেছিলেন ট্রাম্প ও শি চিনফিং। সেখানে হয়েছিল দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠক। আর তার এক সপ্তাহ না যেতেই হাজির হন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। অনেক বিশ্লেষক একে বলছেন, এটি শুধু কূটনৈতিক সফর নয় বরং বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন শক্তিধর জোটের স্পষ্ট বার্তা।

আরও পড়ুন
8

কুকুর দেখলেই ছোড়া হচ্ছে ইনজেকশন!

যৌথ ঘোষণায় শি ও পুতিন বলেন, কিছু দেশ এখনো ঔপনিবেশিক মানসিকতা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। আর সেই কারণেই আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা পড়ছে হুমকির মুখে। তারা আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। বিশেষ করে “নিউ স্টার্ট” চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে চীন ও রাশিয়া প্রকাশ করেছে ক্ষোভ। এই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা সীমিত রাখা। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন রাজি হয়নি এর মেয়াদ বাড়াতে।

আর এরপর থেকেই তৈরি হয়েছে পারমাণবিক প্রতিযোগিতা নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা। এই বৈঠকে শুধু সামরিক নয়, অর্থনীতি ও জ্বালানি নিয়েও হয়েছে বড় আলোচনা। রাশিয়া চায় “পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২” গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নিতে। এই বিশাল প্রকল্পের মাধ্যমে রাশিয়া থেকে চীনে প্রতি বছর সরবরাহ করা হবে বিপুল পরিমাণ গ্যাস। 

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপে থাকা রাশিয়ার জন্য এটি হতে পারে বড় অর্থনৈতিক লাইফলাইন। অন্যদিকে চীনও আরও শক্তিশালী করতে চাইছে জ্বালানি নিরাপত্তা। সব মিলিয়ে বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে এখন যেন তৈরি হচ্ছে নতুন এক ঠান্ডা যুদ্ধের আবহ। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। অন্যদিকে ক্রমশ আরও কাছাকাছি চলে আসছে চীন ও রাশিয়া।

আর তাই অনেকের প্রশ্ন “জঙ্গলের আইন” নিয়ে শি ও পুতিনের এই সতর্কতা কি শুধুই কূটনৈতিক বার্তা? নাকি এটি ভবিষ্যতের আরও বড় সংঘাতের আগাম সংকেত?

আরটিভি/এআর