রোববার, ২৪ মে ২০২৬ , ১০:৪৪ এএম
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির রাজধানী মাদ্রিদ। স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ মে) প্রধানমন্ত্রীর বিদায়ের দাবিতে রাজপথে নামেন হাজার হাজার মানুষ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
রয়টার্স জানায়, মাদ্রিদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে একদল উত্তেজিত প্রতিবাদকারী প্রধানমন্ত্রী সানচেজের সরকারি বাসভবনের চারপাশের নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকা। স্প্যানিশ টেলিভিশনে প্রচারিত ছবিতে দেখা যায়, সানচেজের সরকারি বাসভবন মনক্লোয়া প্যালেসের দিকে যাওয়া প্রধান সড়কে মুখোশধারী কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিক্ষোভের মূল আয়োজন করেছিল মূলত স্প্যানিশ সিভিল সোসাইটি অ্যাসোসিয়েশন নামের একটি সংগঠন। ‘মার্চ ফর ডিগনিটি’ নামে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ “সমাজতান্ত্রিক মাফিয়ার পদত্যাগ চাই” লেখা ব্যানার নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তাদের হাতে স্পেনের জাতীয় পতাকা দেখা যায়। দেশটির প্রধান বিরোধী দল পিপলস পার্টি এবং কট্টর ডানপন্থী ভক্স পার্টির শীর্ষ নেতারাও রাজপথের এই বিক্ষোভে অংশ নেন।
স্পেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার(১৯ মে)। দেশটির একটি আদালত ঘোষণা দেন যে সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী হোসে লুইস রদ্রিগেজ জাপাতেরোর বিরুদ্ধে অবৈধ প্রভাব খাটানো ও অর্থপাচার চক্র পরিচালনার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘোষণা বর্তমান বামপন্থী সরকারের ওপর নতুন করে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সানচেজের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত জাপাতেরো অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে সানচেজের স্ত্রী বেগোনিয়া গোমেজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হলে পেদ্রো সানচেজ সাময়িকভাবে পদত্যাগের কথা বিবেচনা করেছিলেন। তবে পরে তিনি দাবি করেন যে এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কট্টর ডানপন্থীদের চাপে করা হচ্ছে। তবে নতুন করে ঘনিষ্ঠ মিত্রের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের তদন্ত শুরু হওয়ায় দেশজুড়ে আবারও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তীব্র হয়ে উঠেছে।
আরটিভি/এআর