রোববার, ২৪ মে ২০২৬ , ০১:০৩ পিএম
ইউরোপজুড়ে সিফিলিস ও গনোরিয়ার মতো যৌনবাহিত রোগের (এসটিআই) সংক্রমণ রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (ইসিডিসি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এই দুই রোগের সংক্রমণ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
স্বাস্থ্য সংস্থাটি জানিয়েছে, মূলত নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ঘাটতি এবং অসচেতনতার কারণেই এই সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
ইসিডিসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউরোপজুড়ে যৌনবাহিত রোগের বিস্তার অভূতপূর্ব মাত্রায় পৌঁছেছে। ২০২৪ সালে ইউরোপে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩১টি গনোরিয়া সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যা ২০১৫ সালের তুলনায় ৩০৩ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সিফিলিস আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৪৫ হাজার ৫৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সংক্রমণের শীর্ষে রয়েছে স্পেন। ২০২৪ সালে দেশটিতে ৩৭ হাজার ১৬৯টি গনোরিয়া এবং ১১ হাজার ৫৫৬টি সিফিলিস আক্রান্তের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইসিডিসির ‘সরাসরি সংক্রামক ও টিকা-প্রতিরোধযোগ্য রোগ’ ইউনিটের প্রধান ব্রুনো চিয়ানসিও এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই সংক্রমণগুলোর কারণে দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ব্যথা এবং বন্ধ্যত্বের মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সিফিলিসের সঠিক চিকিৎসা না হলে তা হৃদ্যন্ত্র বা স্নায়ুতন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।’
তিনি আরও জানান, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ‘জন্মগত সিফিলিস’ (যেখানে গর্ভাবস্থায় আক্রান্ত মায়ের শরীর থেকে সরাসরি নবজাতকের শরীরে সংক্রমণ ছড়ায়) আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এটি শিশুর জন্য আজীবন শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণ হতে পারে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সমকামী ও পুরুষদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনকারী পুরুষেরা দীর্ঘ মেয়াদে এই দুই রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারীদের মধ্যেও সিফিলিস সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যান্য যৌনবাহিত রোগ, যেমন ‘ক্ল্যামাইডিয়া’ এখনো ইউরোপে সবচেয়ে সাধারণ ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ হিসেবে থাকলেও এর সংক্রমণ ২০১৫ সালের তুলনায় ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৪৩-এ নেমে এসেছে।
ব্রেক্সিটের কারণে এই গবেষণায় যুক্তরাজ্যের তথ্য সরাসরি যুক্ত করা হয়নি। তবে যুক্তরাজ্য সরকারের নিজস্ব স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থার (ইউকেএইচএসএ) প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে কেবল ইংল্যান্ডেই ৭১ হাজার ৮০২ জন গনোরিয়া এবং ৯ হাজার ৫৩৫ জন সিফিলিসে আক্রান্ত হয়েছেন। এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা রুখতে ২০২৫ সালে বিশ্বে প্রথমবারের মতো গনোরিয়া প্রতিরোধী বিশেষ ভ্যাকসিন কর্মসূচি চালু করে যুক্তরাজ্য সরকার।
চিকিৎসকদের মতে, উভয় রোগই প্রাথমিক অবস্থায় সহজে ধরা পড়ে না, যা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম বড় কারণ। গনোরিয়ার ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গে ব্যথা, অস্বাভাবিক তরল নিঃসরণ এবং তীব্র জ্বালাপোড়া হতে পারে। আর সিফিলিসের ক্ষেত্রে যৌনাঙ্গ বা মুখে ছোট ঘা, শরীরে ফুসকুড়ি, চুল পড়ে যাওয়া এবং জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধিক বা অপরিচিত সঙ্গীর ক্ষেত্রে নিয়মিত প্রেজার্ভাটিভ ব্যবহার করা এবং সামান্যতম উপসর্গ দেখা দিলেই ল্যাব টেস্ট করানো উচিত। উভয় রোগই অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য।
আরটিভি/এআর