মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬ , ০৯:১৬ এএম
ইউক্রেনজুড়ে আবারও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাতভর চলা এই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। রাজধানী কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলার আগেই সম্ভাব্য বড় আকারের রুশ হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
মঙ্গলবার (২ জুন) স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় দিনিপ্রো শহরে হামলায় ৭৩ বছর বয়সী এক নারীসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। সেখানে আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
এদিকে খারকিভ শহরে আটজন এবং কিয়েভে চারজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাতভর চলা হামলায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র রাজধানীতেও আঘাত হানে। হামলার সময় হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান। শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে আকাশে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো এক সতর্কবার্তায় বলেন, শহরে বিস্ফোরণ হচ্ছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে। সবাই আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করুন।
অন্যদিকে কিয়েভ সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, শত্রুপক্ষ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে।
ভিটালি ক্লিচকো আরও জানান, হামলায় দুটি বহুতল আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর একদিন আগে ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সম্ভাব্য বড় ধরনের রুশ হামলার বিষয়ে সতর্ক করে নাগরিকদের বিমান হামলার সতর্কসংকেতের প্রতি বিশেষভাবে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, রাশিয়ার হামলা সংক্রান্ত গোয়েন্দা সতর্কবার্তা এখনও কার্যকর রয়েছে এবং বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে অস্থির হয়ে উঠেছে। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে উভয় পক্ষই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর, জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বারবার হামলার শিকার হয়েছে। পাল্টা হিসেবে ইউক্রেনও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
যুদ্ধের কারণে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং বৈশ্বিক খাদ্য ও জ্বালানি বাজারেও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন সময়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে রাশিয়া নিজেদের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থের কথা বলে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলা এবং দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতির পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
আরটিভি/এসকে