images

আন্তর্জাতিক / এশিয়া

মালয়েশিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিষিদ্ধ হচ্ছে সামাজিক মাধ্যম

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬ , ০৭:৩৮ পিএম

১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক বা ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমগুলোকে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশটিতে ১৬ বছরের কম বয়সীরা আর কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার(১ জুন) থেকেই মালয়েশিয়ায় এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে শুরু করেছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউবসহ যেসব প্ল্যাটফর্মের ৮০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে, সেগুলোকে এই নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে। সরকারের দাবি, শিশুদের অনলাইন দুনিয়ায় নিরাপদ রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়া সরকার বলছে, সামাজিক মাধ্যম শিশুদের জন্য সব সময় নিরাপদ নয়। এখানে অনেক সময় নেতিবাচক কনটেন্ট, সাইবার বুলিং ও অতিরিক্ত আসক্তির ঝুঁকি থাকে। এই মানসিক ও সামাজিক ঝুঁকি থেকে শিশুদের দূরে রাখতেই ১৬ বছরের নিচে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
21

ইউরোপের যে শহরে সিঙ্গেল নারী সবচেয়ে বেশি

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বড় বড় সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই করতে হবে। যদি কোনো অ্যাকাউন্ট ১৬ বছরের কম বয়সী কারও বলে শনাক্ত হয়, তবে সেটি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার আগে ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের ছবি, ভিডিও ও ব্যক্তিগত তথ্য ডাউনলোড করে রাখার জন্য এক মাস সময় পাবে। এই নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার অনেক পরিবার সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। অভিভাবকদের মতে, এতে শিশুরা ভার্চুয়াল জগৎ থেকে বের হয়ে বই পড়া, খেলাধুলা ও বাস্তব জীবনের কাজে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে। অনেক অভিভাবক মনে করেন, সামাজিক মাধ্যম শিশুদের অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ ও আসক্তির দিকে ঠেলে দেয়। এক অভিভাবক তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের সন্তানরা নিরাপদে বড় হোক, ভুল কিছুর প্রভাব যেন তাদের ওপর না পড়ে।’

তবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সবাই পুরোপুরি একমত হতে পারছেন না। কিছু পরিবার মনে করছে, সামাজিক মাধ্যম এখন কেবল বিনোদন নয়, এটি শেখারও বড় জায়গা। ইউটিউব বা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে শিশুরা অনেক শিক্ষণীয় বিষয় জানতে পারে। তাই এটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হয়নি।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভালো উদ্দেশ্য থাকলেও এটি বাস্তবে কতটা কার্যকর করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। কারণ অনেক সময় বয়স লুকিয়ে বা ভুয়া তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব। আবার বয়স যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হলে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

আরটিভি/এআর