images

আন্তর্জাতিক

ভারতে মায়ের প্রেমিকের নির্যাতনে দেড় বছরের শিশুর মৃত্যু

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬ , ০৮:৪৯ পিএম

ভারতের কেরালায় এক শিশুর মৃত্যুতে দীর্ঘদিনের নির্মম নির্যাতন, শারীরিক নিপীড়ন ও তিন মাস আগের এক হত্যা ষড়যন্ত্রের ভয়াবহ তথ্য উন্মোচন হয়েছে। দেড় বছর বয়সী শিশু আরশিদকে পিটিয়ে হত্যা করেছে তার মায়ের লিভ-ইন পার্টনার। আর এই পুরো সময় জুড়ে মা নির্বাক দর্শক হয়ে ছিলেন।

গত ২৯ মে সন্ধ্যায় আরশিদকে প্রথমে পানাভুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে শ্রী অবিতোম তিরুনাল (এসএটি) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত আশকার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলেছিলেন, ‘আমার প্রেমিকার ছেলের গলায় খাবার আটকে গেলে অচেতন হয়ে পড়েছিল।’

তবে আরশিদের আত্মীয়রা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে পুলিশের কাছে সন্দেহ প্রকাশ করেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ক্রমাগত মারধরের কারণে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তার পুরো শরীর জুড়ে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তদন্তকারীরা শিশুটির শরীরে মোট ৫১টি ক্ষত পেয়েছেন, যার মধ্যে তার যৌনাঙ্গে গভীর আঘাত এবং পায়ে সিগারেটের ছ্যাঁকার দাগ রয়েছে। এরপর ৩০ মে রাতে নেদুমানগাদ পুলিশ শিশুটির মা ২১ বছর বয়সী আখিলা ও তার প্রেমিক আশকারকে গ্রেফতার করে। তাদের দুজনকে আদালতে হাজির করার পর বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

নেদুমানগাদের পানাভুর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের পর সোমবার পুলিশ তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ ও দৃশ্য পুনর্নির্মাণের জন্য আশকারকে ওই বাড়িতে নিয়ে আসে। দৃশ্য পুনর্নির্মাণের পর আশকার পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করে বলেন, ‘আমি তিন মাস আগেই আরশিদকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। গত এক মাস ধরে তাকে নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন করেছি। আমি আরশিদকে আখিলার সঙ্গে আমার জীবনের একটি বড় বাধা মনে করতাম।’

পুলিশের কাছে দেওয়া বিবৃতিতে মা আখিলা স্বীকার করেছেন যে, তিনি এই নির্মম নির্যাতনের বিষয়ে জানতেন। তিনি নিজের চোখে তার প্রেমিককে একাধিকবার হাত ও লাঠি দিয়ে ছেলেকে মারতে দেখেছেন, কিন্তু সন্তানকে বাঁচানোর কোনও চেষ্টাই তিনি করেননি।

তিরুঅনন্তপুরম থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। আরশিদের বাবা এস অখিল প্রায় দুই বছর আগে আত্মহত্যা করেছিলেন এবং সে সময় আখিলা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পুলিশের তদন্তে অভিযুক্ত আশকারের পূর্বের সহিংস আচরণের ইতিহাসও বেরিয়ে এসেছে। তিনি তার প্রথম স্ত্রী আমিনার ওপরও নিয়মিত পারিবারিক নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র: এনডিটিভি