বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬ , ০৫:১৮ এএম
যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তেহরান এমন কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলতে রাজি হতে পারে, যা আগে তারা আলোচনা করতে অস্বীকার করেছিল বলেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা আগে আলোচনার টেবিলে আসেনি।
মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন কংগ্রেসে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নতুন তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগে ইরান ধীরে ধীরে তাদের অবস্থান কিছুটা নমনীয় করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও দুই পক্ষের মধ্যে এখনো অনেক বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, তবে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
রুবিও বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীপুনরায় খুলে দেওয়া। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল–ইরান সংঘাতের পর এই জলপথটি উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ওয়াশিংটনের মতে, এই পথ খোলা না থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
রুবিও বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রথম শর্ত হলো তারা হরমুজ প্রণালি খুলবে। তেহরানকে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়েও নির্দিষ্ট আলোচনায় যেতে হবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু—দুই দিকেই স্পষ্ট অগ্রগতি ছাড়া কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।
গত সোমবার (১ জুন) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে শান্তি আলোচনা স্থগিত করেছে ইরান। লেবানন ও গাজায় ইসরাইলের অব্যাহত হামলার প্রতিবাদে দেশটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের চুক্তি নিয়ে দূরত্ব বাড়তে থাকায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলমান সব ধরনের আলোচনা ও বার্তা আদান-প্রদান স্থগিত করেছে তেহরান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, লেবাননে জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর (ইসরাইল) ক্রমাগত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আলোচনা স্থগিতের অন্যতম কারণ। দেশটিতে হামলা বন্ধের বিষয়টি যুদ্ধবিরতির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল। কিন্তু সেটিও বারবার লঙ্ঘন হয়েছে। এসব বিবেচনায় ইরানের আলোচক দল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সব ধরনের সংলাপ, খসড়া চুক্তির জন্য বার্তা আদান-প্রদান স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তাসনিম আরও জানায়, গাজা ও লেবাননে ইসরাইলি অভিযান বন্ধ এবং লেবাননের ভূখণ্ডের কিছু অংশ থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারসহ তাদের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি আলোচকরা ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা ও বার্তা আদান-প্রদান’ স্থগিত রাখবে।
ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের কাছে তাদের চূড়ান্ত অবস্থান জানায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি।
সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি অবহিত সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, তেহরান এখনো চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পাঠানো হয়নি।
সূত্রটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র অতীতে বহুবার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে ইরানের ধারণা। এ কারণে আলোচনায় তেহরান সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এখনো আলোচনার ওপর প্রভাব ফেলছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তি থেকে ‘বাস্তব ও দৃশ্যমান সুবিধা’ নিশ্চিত করতে চায় ইরান। ফলে যুদ্ধবিরতির কাঠামো চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টা চললেও আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
যুদ্ধের অবসানে একটি চুক্তি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহে ইরানের কাছে একটি সংশোধিত খসড়া প্রস্তাব পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এতে আগের তুলনায় আরও কঠোর শর্ত রাখা হয়েছে বলে মার্কিন গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
আরটিভি/এমএম