images

আন্তর্জাতিক

সাগরে ভাসবে স্টেডিয়াম-উদ্যান-জাদুঘরসহ ‘অভিনব শহর’

বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬ , ০২:০৭ পিএম

বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ভাসমান শহর গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে ‘ফ্রিডম শিপ’ প্রকল্প। সাগরের বুকে ভাসমান এই বিশাল কাঠামোতে থাকবে স্টেডিয়াম, উদ্যান, জাদুঘর, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণাকেন্দ্র, বাজার, রেস্তোরাঁ ও আবাসনসহ একটি স্বনির্ভর নগরের প্রায় সব সুবিধা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ সম্প্রতি জানিয়েছে, প্রায় এক মাইল দীর্ঘ ও ৮০০ ফুট প্রশস্ত এই মহাতরী হবে ৩০ তলা বিশিষ্ট। এতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষের বসবাসের সুযোগ থাকবে, যার মধ্যে ৫০ হাজার হবেন স্থায়ী বাসিন্দা। এছাড়া প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার অতিথি গ্রহণের সক্ষমতা থাকবে জাহাজটিতে।

প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রায় ২৩ লাখ টন ওজনের জাহাজটি পরিচালনায় পরমাণু শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে, যা দূষণ কমাতে সহায়ক হবে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

ফ্রিডম শিপে থাকবে ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম, বহুতল হোটেল, ওয়াটার পার্ক, কনভেনশন সেন্টার, সিম্ফনি হল এবং দুই তলা বিশিষ্ট ফুড হল। পাশাপাশি থাকবে বিশাল জলাধার, ক্লাব, তিন একর আয়তনের উদ্যান এবং প্রায় ১৫ মাইল দীর্ঘ হাঁটার পথ।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে এই প্রকল্পে। জাহাজে স্কুল-কলেজ, বড় হাসপাতাল ও চিকিৎসা গবেষণাকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চারটি তলা বরাদ্দ রাখা হবে, যেখানে ব্যাংক, বাজার ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থান পাবে।

ছাদে থাকবে আটটি হেলিপ্যাড। তবে বিশাল আকারের কারণে জাহাজটি কোনো দেশের বন্দরে ভেড়ানো সম্ভব হবে না। আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচল করবে এটি এবং ছোট ফেরি বা প্রমোদতরীর মাধ্যমে যাত্রীদের আনা-নেওয়া করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি দুই বছরে একবার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করবে ফ্রিডম শিপ।

প্রকল্পটির ধারণা প্রথম দেন মার্কিন প্রকৌশলী নরম্যান নিক্সন, যিনি ১৯৯০-এর দশকে এমন একটি ভাসমান নগরীর প্রস্তাব করেছিলেন। ২০১২ সালে তাঁর মৃত্যু হলেও প্রকল্পটির স্বপ্ন এখনো টিকে আছে।

বর্তমানে প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে কাজ করছে ফ্রিডম ক্রুজ লাইন ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী রজার গুচ সম্প্রতি একটি ১২ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বাজারে এ ধরনের জাহাজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং এমন তিনটি জাহাজ নির্মাণেরও যৌক্তিকতা আছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস জানিয়েছে, অর্থায়ন নিশ্চিত হলে ইন্দোনেশিয়ায় জাহাজটির নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে। ধাপে ধাপে বিভিন্ন অংশ তৈরি করে সেগুলো একত্রিত করা হবে। পুরো নির্মাণকাজ শেষ হতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি, ফ্রিডম শিপ শুধু একটি প্রমোদতরী নয়; এটি হবে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাসমান শহর। পরিবেশবান্ধব নকশা, সবুজায়ন এবং মহাসাগর পরিষ্কারে সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এটি ভবিষ্যতের টেকসই নগরায়ণের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এমন ভাসমান আবাসন প্রকল্প ভবিষ্যতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। তবে এখনো নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় ফ্রিডম শিপ আপাতত একটি উচ্চাভিলাষী স্বপ্ন হিসেবেই রয়ে গেছে।

আরটিভি/এসকে