বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬ , ০৪:৩৩ পিএম
কুয়েত ও বাহরাইনে নতুন করে হামলা চালানোর পেছনে দেশ দুটির সরাসরি দায় রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানে মার্কিন হামলার জন্য এই দুই দেশ দায়ী, কারণ তাদের ভূখণ্ড ও সহায়তা ব্যবহার করেই ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার (৩ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন এবং চলমান যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে দেশটি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলার ঘটনায় কুয়েত ও বাহরাইনের স্পষ্ট এবং সরাসরি দায় রয়েছে। তেহরান আরও স্পষ্ট করেছে যে তাদের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের হামলা হলে তার জবাব দিতে সব ধরনের উপায় ব্যবহার করা হবে এবং হামলার উৎসকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এর আগে কুয়েতের প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার(২ জুন) ভোরের দিকে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল। তবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ্যে আঘাত হানার আগেই সেগুলোকে ধ্বংস করা হয়। দেশের অভ্যন্তরে কোনো স্থাপনায় শত্রুতাপূর্ণ হামলা ঘটেনি নিশ্চিত করে তারা জানায়, মাঝরাতে স্থানীয় বাসিন্দারা যে শব্দ শুনেছিলেন, সেটি মূলত শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসের আওয়াজ।
তবে কুয়েতের এই দাবিকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক বার্তায় আইআরজিসি দাবি করেছে, কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আঘাত হানার স্পষ্ট প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে।
কুয়েতের পাশাপাশি প্রায় একই সময়ে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ঘাঁটি লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাহরাইনের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় ইরানি কেশম দ্বীপের আশপাশে প্রথমে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় আইআরজিসি। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরটিভি/এআর