বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬ , ০৬:১৮ পিএম
ফিনল্যান্ডের ল্যাপল্যান্ড অঞ্চলে পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ হিসেবে গ্রীষ্মজুড়ে আয়োজন করা হয়েছে লুকানো সোনার বার খোঁজার এক ব্যতিক্রমী অভিযান।
সিএনএন জানিয়েছে, এই অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা উত্তর ফিনল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র লেভি এলাকার বিভিন্ন ট্রেইল ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে বেড়াবেন। শীতকালে স্কি ঢাল এবং নর্দার্ন লাইটস দেখার জন্য বিখ্যাত এই এলাকায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে ২০ হাজার ইউরো (প্রায় ২৩ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার) মূল্যের একটি সোনার বার।
মঙ্গলবার প্রকাশিত ভিজিট লেভির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘মিডনাইট সান হান্ট’ নামের এই আয়োজন শুরু হবে আগামী ১৮ জুন। অংশগ্রহণকারীরা লেভি ভিজিটর সেন্টার থেকে প্রথম সূত্র (ক্লু) সংগ্রহ ও নিবন্ধন করতে পারবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে আরও সূত্র প্রকাশ করা হবে, যা তাদের স্থানীয় ট্রেইল, দর্শনীয় স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মধ্য দিয়ে সোনার বারের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
আয়োজকদের ভাষ্য, যেকোনো সূত্র অনুসরণ করেই সোনার বারটি খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। তবে গ্রীষ্মজুড়ে নতুন নতুন ইঙ্গিত প্রকাশ করা হবে, যাতে ধীরে ধীরে এর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শেষ সূত্রটি প্রকাশ করা হবে আগামী ২২ আগস্ট।
আর্কটিক সার্কেলের ওপরে অবস্থিত লেভি ফিনল্যান্ডের অন্যতম প্রধান স্কি রিসোর্ট এবং শীতকালীন পর্যটনের জনপ্রিয় কেন্দ্র। তবে গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলে দেখা যায় ‘মিডনাইট সান’ বা মধ্যরাতের সূর্য—বছরের নির্দিষ্ট সময়ে যখন ২৪ ঘণ্টাই সূর্যের আলো থাকে।
ভিজিট লেভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাতু পেসোনেন বলেন, ‘লেভি মূলত শীতকালীন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত হলেও উত্তরাঞ্চলের গ্রীষ্ম এখনো অনেক পর্যটকের কাছে অজানা। আমরা এমন সময়ে ভ্রমণকারীদের লেভিতে আসার নতুন একটি কারণ দিতে চাই, যখন সূর্য অস্ত যায় না এবং পাহাড়ি প্রাকৃতিক দৃশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে ধরা দেয়।’
ইউরোপের অন্যান্য অনেক শীতকালীন পর্যটনকেন্দ্রের মতো লেভি স্কি রিসোর্টও সারা বছর পর্যটক আকর্ষণে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। স্কি মৌসুমের বাইরে এখানে প্যারাগ্লাইডিং, হাইকিং, নদীতে রাফটিং এবং মাউন্টেন বাইকিংয়ের মতো কর্মকাণ্ডের সুযোগ রয়েছে।
লেভির এই ‘মিডনাইট সান হান্ট’ আয়োজন করা হয়েছে কিট্টিলা-ভিত্তিক সোনার খনি প্রতিষ্ঠান অ্যাগনিকো ঈগল ফিনল্যান্ড এবং লেভি স্কি রিসোর্টের সহযোগিতায়।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, অংশগ্রহণকারীদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে, নির্ধারিত এলাকার বাইরে যাওয়া যাবে না এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। সোনার বার খুঁজে পেতে কোথাও খনন বা ভূমির কোনো ধরনের ক্ষতি করার প্রয়োজন হবে না।
আরটিভি/এসএস