রোববার, ০৭ জুন ২০২৬ , ০৯:১৪ এএম
ভারতের বাজারে ‘মেড ইন পাকিস্তান’ (পাকিস্তানে তৈরি) লেখা পোশাক ও পণ্য বিক্রির ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গেল বছর কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পরই দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার পাকিস্তানি পণ্যের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তবে বছর ঘুরে গেলেও চোরাপথে পাকিস্তানের তৈরি সরঞ্জাম যে এখনো দেশটিতে আমদানি হচ্ছে, তার প্রমাণ ফের মিলল মহারাষ্ট্রে। এবারের ঘটনাস্থল পুনেতে অনুষ্ঠিত একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা। সেখান থেকে না দেখেই একটি ‘মেড ইন পাকিস্তান’ লেখা চাদর কিনে এনেছিলেন পুনের বাসিন্দা পূজা সরাফ। তবে সেই চাদর বাড়িতে এনে ধোয়ার সময় তার টনক নড়ে। তিনি স্পষ্ট দেখেন যে চাদরে লাগানো রয়েছে একটি ‘পাকিস্তানি’ ট্যাগ।
শনিবার(৬ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার(৩ জুন) মহারাষ্ট্রের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকার মোরায়া গোসাভি মন্দিরে একটি মেলা বসেছিল। সেখান থেকেই এই চাদরটি কিনেছিলেন পূজা। চাদরটি কেনার সময় তাতে কোনো অস্বাভাবিকতা না থাকলেও বাড়িতে এনে ধোয়ার পরই কাপড়ের ভেতর থেকে একটি ট্যাগ দৃশ্যমান হয়, যেখানে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা ছিল ‘মেড ইন পাকিস্তান’।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন ওই নারী চাদরটির ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। পাকিস্তানের তৈরি পণ্য কীভাবে ভারতের স্থানীয় ধর্মীয় মেলায় এসে পৌঁছাল, তা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তোলেন।
ভিডিও বার্তায় পূজা বলেন, ‘আমরা কোথায় থাকি? আমরা তো সীমান্ত এলাকার মানুষ নই। অথচ আমাদের বাড়িতেই এসেছে পাকিস্তানে তৈরি জিনিস। এই ঘটনায় আমি অত্যন্ত দুঃখিত। আমার মতোই আরও যারা এই চাদর কিনেছেন, তাদের কাছেও পাকিস্তানের এই পণ্য পৌঁছেছে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
কেন্দ্রীয় সরকারের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আগে জানানো হয়েছিল, ‘যখনই জিনিস কিনবেন, চোখ খোলা রাখবেন।’ সেই বিষয়টি উল্লেখ করেই পূজা ভিডিও বার্তায় আরও বলেন, ‘এখন আমার চোখ খোলা।’ এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় পুলিশের তরফে ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
পাশাপাশি স্থানীয় পুরনিগমের তরফেও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, মোরায়া গোসাভি মন্দিরের মেলায় যারা যারা ওই পাকিস্তানি চাদর বিক্রি করছিলেন, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। এই নিষিদ্ধ পণ্য কোথা থেকে এবং কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকল, তা নিয়েও বিশদ তদন্ত চালানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভারতে এভাবে পাকিস্তানি পণ্য গোপনে বিক্রির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গত মাসেই মহারাষ্ট্রের ধুলে এলাকায় বিভিন্ন পাকিস্তানি সরঞ্জাম অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই অভিযানে বিভিন্ন পাকিস্তানি ক্রিম, সাবান, সিরামসহ প্রায় ৬১ হাজার টাকার প্রসাধনী দ্রব্য বাজেয়াপ্ত করে প্রশাসন। তারও আগে ছত্রপতি শম্ভাজিনগরে পাকিস্তানের তৈরি নিষিদ্ধ সামগ্রী মজুত করা ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
আরটিভি/এআর