সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ০৫:৪৯ পিএম
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় এক গ্রামের বাসিন্দারা। তাদের দাবি, বেড়াটি 'জিরো লাইন' বা শূন্যরেখা বরাবর নির্মাণ করতে হবে। তা না হলে তাদের গ্রামটি ভারতের বাকি অংশ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
রোববার (৭ জুন) এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
মেঘালয়ের ইস্ট খাসি হিলস জেলায় প্রায় জিরো লাইনে অবস্থিত লিংখং গ্রাম। এমন আরও কয়েকটি গ্রাম আছে, যেখানকার বাড়িঘরগুলো বাংলাদেশের সীমানা থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, জিরো লাইন থেকে কাঁটাতারের বেড়ার অন্তত ১৫০ গজ দূরত্ব থাকতে হবে।
স্থানীয়রা জানান, কোভিড-১৯ মহামারির সময় গ্রামবাসীরা বাঁশ দিয়ে একটি বেড়া তৈরি করেছিলেন, যা দিয়ে গ্রামটিকে বাংলাদেশ থেকে আলাদা করা হয়েছিল। এরপর আর খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।
চলমান বেড়া নির্মাণকাজ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিতে রোববার (৪ জুন) গ্রামবাসী বিক্ষোভ করেন এবং পিনুরসলা অঞ্চলের সাব-ডিভিশনাল কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
গ্রামপ্রধান রামু বলেন, 'আমরা সীমান্তে বেড়া দেওয়ার বিরোধী নই, কিন্তু আমরা চাই বেড়াটি যেন জিরো লাইনে নির্মাণ করা হয়। এতে করে আমাদের গ্রাম ভারতের ভেতরে এবং বেড়ার মধ্যে সুরক্ষিত থাকবে।'
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী বেড়া নির্মিত হলে লিংখং গ্রামটি নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে পড়ে যাবে। এর ফলে গ্রামের মানুষের যাতায়াত, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হবে।
একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানান স্থানীয় বাসিন্দা রিমা খংসদির। তিনি বলেন, 'বর্তমান নকশা অনুযায়ী বেড়া নির্মিত হলে আমাদের গ্রাম বাইরে পড়ে যাবে। আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা চাই রাজ্য সরকার আমাদের কথা শুনুক এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরুক।'
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষিত করার অংশ হিসেবেই বেড়া নির্মাণের এই কাজ চলছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে মেঘালয়ের ৪৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা এবং দুর্গম অঞ্চলের কারণে এখনো প্রায় ৮০ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া দেওয়া হয়নি।
বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে লিংখং গ্রামে একটি ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, 'গ্রামে বিএসএফের উপস্থিতি রয়েছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে।'
ভারতের স্বরাষ্ট্র বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যেসব এলাকায় জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে জিরো লাইন বরাবর সিঙ্গেল-রো বেড়া নির্মাণের বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ভারত।
ওই কর্মকর্তা বলেন, 'জিরো লাইনে সিঙ্গেল-রো বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বাংলাদেশের নতুন সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।'
সূত্র: দ্য হিন্দু
আরটিভি/ এসকেডি