বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ০৯:২৫ এএম
কানাডার জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার কানাডার সাবেক পাইলট জেফরি ওয়ালকে দীর্ঘ ১৭ বছর প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই বিমান পরিচালনার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে কানাডীয় পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাধ্যতামূলক ‘এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স’ ছাড়াই ৯০০টিরও বেশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। এ সময় তিনি বোয়িং ৭৬৭, ৭৭৭ ও ৭৮৭ উড়িয়েছেন এবং প্রায় ৩০ লাখ কানাডিয়ান ডলার বেতন গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্টারিওতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিল রিজিওনাল পুলিশের ডেপুটি চিফ মিলিনোভিচ বলেন, ঘটনাটি যেন কোনো চলচ্চিত্রের কাহিনি। তার ভাষায়, জেফরি ওয়াল দীর্ঘ সময় ‘পাইলট ইন কমান্ড’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যদিও ওই পদে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স তার ছিল না।
পুলিশ জানায়, জেফরি ওয়ালের একটি বাণিজ্যিক (কমার্শিয়াল) পাইলট লাইসেন্স ছিল। তবে ২০০৯ সালে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর তার যে এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স অর্জন করার কথা ছিল, সেটি তিনি কখনোই নেননি। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে নিয়োগকর্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে ভুল তথ্য দিয়েছেন।
২০২৫ সালে নিয়মিত নথি যাচাইয়ের সময় তার লাইসেন্স সংক্রান্ত অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে এয়ার কানাডা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানায়। তবে ফৌজদারি তদন্ত শুরুর আগেই তিনি অবসরে যান।
ঘটনার পর এক বিবৃতিতে এয়ার কানাডা জানিয়েছে, এ কারণে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়নি। সংস্থাটির দাবি, তাদের সব পাইলটকে প্রতি ছয় মাস অন্তর দক্ষতা যাচাই এবং প্রতি বছর অনুমোদিত চেক-পাইলটের মাধ্যমে মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
এদিকে ট্রান্সপোর্ট কানাডা জেফরি ওয়ালের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং জরিমানা করেছে। তার বিরুদ্ধে ৫ হাজার ডলারের বেশি অর্থমূল্যের জালিয়াতি, জাল নথি ব্যবহার ও ভুয়া সিল বা চিহ্ন ব্যবহারের অভিযোগে মোট সাতটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আগামী ২৯ জুন তাকে আদালতে হাজির করা হবে। তবে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি অনেকের কাছে ‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’ চলচ্চিত্রের বাস্তব প্রতিচ্ছবি হিসেবে আলোচিত হচ্ছে, যেখানে ভুয়া পরিচয়ে পাইলট সেজে প্রতারণার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
আরটিভি/এসকে