বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ০১:০৯ পিএম
সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মুসলিম কূটনীতিক নিয়োগ দিয়ে এসেছে ভারত। সেই প্রচলিত প্রথা ভেঙে এবার প্রথমবারের মতো অমুসলিম কূটনীতিক বিপুলকে রিয়াদে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের কূটনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৯৪৮ সালে ভারত-সৌদি আরবের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে রিয়াদে ভারতের রাষ্ট্রদূত এবং জেদ্দায় কনসাল জেনারেলের পদে সাধারণত মুসলিম কর্মকর্তাদেরই নিয়োগ দেওয়া হতো। এর পেছনে ধর্মীয় নয়, বরং বাস্তব কারণই ছিল প্রধান। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক ভারতীয় মুসলমান হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। হজ ব্যবস্থাপনা, তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বয়ের জন্য রাষ্ট্রদূতকে অনেক সময় মক্কা, মদিনা ও মিনার মতো পবিত্র এলাকায় যেতে হতো, যেখানে অমুসলিমদের প্রবেশের অনুমতি নেই।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বাস্তবতায় পরিবর্তন এসেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ মুসলিম কূটনীতিকের সংখ্যা তুলনামূলক কমে যাওয়ায় সরকার নিয়োগের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
নতুন রাষ্ট্রদূত বিপুল ভারতীয় পররাষ্ট্রসেবার ১৯৯৮ ব্যাচের কর্মকর্তা। এর আগে তিনি কাতারে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। পাশাপাশি মিসর, শ্রীলঙ্কা, জেনেভা ও দুবাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও কূটনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই এই নিয়োগের পেছনে অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নিয়োগকে শুধুমাত্র ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি ভারতের কূটনৈতিক নীতির একটি নতুন বার্তা, যেখানে রাষ্ট্রদূত নির্বাচনের ক্ষেত্রে ধর্ম নয়, যোগ্যতা ও কৌশলগত প্রয়োজনকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে সৌদি আরব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক রাজনীতিতে রিয়াদের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে অভিজ্ঞ কূটনীতিককে দায়িত্ব দিয়ে ভারত তার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সাত দশকের প্রথা ভেঙে অমুসলিম রাষ্ট্রদূত নিয়োগের এই সিদ্ধান্তকে কেবল প্রতীকী পরিবর্তন হিসেবে নয়, বরং ভারতের কূটনৈতিক অগ্রাধিকার ও বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: এনডিটিভি
আরটিভি/এমএইচজে