images

আন্তর্জাতিক

দাড়ি থাকায় ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানে বাধ্য, মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুপিয়ে হত্যা

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ , ০২:০৭ পিএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যের পুরুলিয়া জেলায় আকবর মণ্ডল (৪৭) নামে এক মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। 

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মুসলিমদের মধ্যে ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে এবং দাড়ি থাকার কারণে অনেককেই জোর করে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হতো।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ জুন বান্দোয়ান এলাকায় ফেরি করতে গিয়ে হামলার শিকার হন আকবর মণ্ডল। তার ছেলে জুলফিকার জানান, সেদিন সকালে স্টিলের বাসনপত্র বিক্রি করার সময় সুপুরডিহি গ্রামের একটি বাড়িতে তাকে টেনে নেওয়া হয়। সেখানে এক ব্যক্তি প্রথমে লাঠি দিয়ে মারধর করে এবং পরে কুড়াল দিয়ে আঘাত করে।

জুলফিকার বলেন, দুপুরে বান্দোয়ান থানা থেকে ফোন পেয়ে তিনি হাসপাতালে যান। সেখানে বাবার মরদেহ দেখতে পান। তার ভাষ্য, আকবর মণ্ডলের মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ছেলে অভিযোগ করেন, এলাকায় কিছু লোক মুসলিম ফেরিওয়ালাদের দাড়ি দেখে ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে বাধ্য করত। তারা হুমকি দিত যে, এসব না বললে এলাকায় ফেরি করতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে মুসলিমদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে এবং তারা আতঙ্কের মধ্যে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

পুনিশোল গ্রামের বাসিন্দা খেলাফত হোসেন মণ্ডলও একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, স্থানীয় মুসলিম শ্রমজীবী মানুষদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ কাজ করছে এবং কাজে বের হওয়ার সময়ও তারা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকেন।

এদিকে, পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে বিশ্বনাথ মাহাতো নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাড়ির ভেতরেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

আরও পড়ুন
KUAIT

জালিয়াতির অভিযোগে কুয়েতে ৫ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

পুলিশ সুপার বলেন, হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটি ব্যক্তিগত বিরোধ বা ঝগড়ার জেরেও হয়ে থাকতে পারে। এখন পর্যন্ত ঘটনার পেছনে ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিহতের পরিবার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

আরটিভি/এসকে