images

আন্তর্জাতিক

গভীর সমুদ্রে রহস্যময় প্রবালের সন্ধান

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ , ১২:৫০ পিএম

আর্জেন্টিনার উপকূলের দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের গভীর অন্ধকার তলদেশে নতুন এক সমৃদ্ধ প্রবালরাজ্যের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রায় ০.৪ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই প্রবালপ্রাচীরের আয়তন ভ্যাটিকান সিটির সমান বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

এই অনুসন্ধান পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্মিথ ওশান ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীরা। তারা দূরনিয়ন্ত্রিত সাবমার্সিবল যান ‘সেবাস্টিয়ান’ ব্যবহার করে সমুদ্রের প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অঞ্চলে অনুসন্ধান চালান।

গভীর সমুদ্রের এই অঞ্চলে সাধারণত খাদ্য ও আলো না থাকায় প্রাণের উপস্থিতি সীমিত থাকে। কিন্তু এই নতুন আবিষ্কৃত প্রবালপ্রাচীরের আশপাশে কাঁকড়া, তারা মাছ, জেলিফিশ এবং অক্টোপাসসহ নানা সামুদ্রিক প্রাণীর সক্রিয় উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লেহাই ইউনিভার্সিটির গভীর সমুদ্র জীববিজ্ঞানী সান্তিয়াগো হেরেরা বলেন, এটি গভীর সমুদ্রের অন্যতম সবচেয়ে প্রাণবন্ত ও বৈচিত্র্যময় বাস্তুতন্ত্র হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রাণীরা একে অপরের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করছে।

গবেষকদের মতে, সূর্যালোক না থাকলেও এই প্রবালগুলো বেঁচে আছে মূলত “মেরিন স্নো” নামে পরিচিত উপরের স্তর থেকে নেমে আসা জৈব কণার ওপর নির্ভর করে।

এ বিষয়ে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয় এবং আর্জেন্টিনার ন্যাশনাল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের সামুদ্রিক বিজ্ঞানী মারিয়া এমিলিয়া ব্রাভো বলেন, আর্জেন্টিনার গভীর সমুদ্রে এমন উচ্চমাত্রার জীববৈচিত্র্য পাওয়া তাদের জন্য ছিল অপ্রত্যাশিত, যা দেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য বোঝার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

এই অভিযানে শুধু প্রবালপ্রাচীরই নয়, আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হয়েছে প্রায় ৩,৮৯০ মিটার গভীরতায় একটি তিমির কঙ্কাল বা ‘হোয়েল ফল’। এটি আর্জেন্টিনার সমুদ্রে এ ধরনের প্রথম নথিভুক্ত গভীর পানির হোয়েল ফল। বিজ্ঞানীদের ধারণা, কঙ্কালটি কয়েক দশক ধরে সেখানে পড়ে আছে এবং এখন তা বিভিন্ন অণুজীব ও সামুদ্রিক প্রাণীর আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।

গবেষকেরা বলছেন, এই আবিষ্কার গভীর সমুদ্রের অজানা জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র বোঝার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট

আরটিভি/এসকে