images

আন্তর্জাতিক

সমুদ্রের নিচে ৫৩ লক্ষ বছর পুরনো ‘তিমির কবরস্থান’ আবিষ্কার

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ , ০২:২৯ পিএম

ভারত মহাসাগরের গভীর তলদেশে বিশ্বের বৃহত্তম ও প্রাচীনতম ‘তিমির সমাধিক্ষেত্র’ আবিষ্কার করেছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। এই যুগান্তকারী আবিষ্কার গভীর সমুদ্রের প্রাণবৈচিত্র্য ও বিবর্তন সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত গবেষণায় জানানো হয়েছে, ভারত মহাসাগরের গভীরে ছড়িয়ে থাকা এই তিমির কঙ্কালগুলোর মধ্যে কিছু জীবাশ্মের বয়স প্রায় ৫৩ লক্ষ বছর। এটিই এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে আবিষ্কৃত সবচেয়ে গভীর ও প্রাচীন তিমির সমাধিক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গবেষণা অনুযায়ী, চীনের গভীর সমুদ্রগামী সাবমার্সিবল ব্যবহার করে ২০২৩ সালে দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। সাবমার্সিবলটি মোট ৩২ বার গভীর সমুদ্রে ডুব দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেই গবেষকরা এই বিস্ময়কর আবিষ্কারের কথা প্রকাশ করেছেন।

বিজ্ঞানীরা জানান, অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত ‘ডায়ামান্টিনা জোন’ নামে পরিচিত প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রতল এলাকাজুড়ে অসংখ্য তিমির কঙ্কাল ছড়িয়ে রয়েছে। রোবটিক বাহুর সাহায্যে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার গভীরতা থেকে ৫০০টিরও বেশি তিমির হাড় সংগ্রহ করা হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, পুরো এলাকাজুড়ে এক কোটিরও বেশি তিমির জীবাশ্ম থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা ‘হোয়েল ফল’ নামে পরিচিত। একটি তিমি মারা গেলে তার বিশাল দেহ সমুদ্রের তলদেশে ডুবে যায় এবং ধীরে ধীরে গভীর সমুদ্রের নানা প্রাণীর খাদ্যের উৎসে পরিণত হয়। গবেষকদের ধারণা, ডায়ামান্টিনা জোনে অবস্থিত ‘ভি’ আকৃতির একটি গভীর খাদ মৃত তিমিগুলোর দেহকে একত্রে তলদেশে জমা হতে সহায়তা করেছে।

গবেষণার সহ-লেখক পেং ঝোউ বলেন, এত বিশাল ও প্রাচীন তিমির সমাধিক্ষেত্র নিজের চোখে দেখা ছিল এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। তার ভাষায়, সমুদ্রের অন্ধকার ও শীতল তলদেশে এই কঙ্কালগুলোকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এক প্রাণবন্ত বাস্তুতন্ত্র।

গবেষণায় আরও জানা গেছে, এই জীবাশ্মগুলোর আশপাশে বহু অদ্ভুত ও বিরল প্রাণীর বসবাস রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ ধরনের জেলিফিশ, ব্রিটল স্টার, হাড়খেকো কৃমি এবং বাইভালভ প্রজাতির মোলাস্ক। গবেষকদের ধারণা, এসবের কিছু প্রজাতি বিজ্ঞানীদের কাছেও সম্পূর্ণ নতুন হতে পারে।

এছাড়া তিমির কঙ্কালের মধ্যে একটি বিলুপ্ত তিমি প্রজাতির জীবাশ্মও পাওয়া গেছে, যার অস্তিত্ব সম্পর্কে আগে কোনো তথ্য জানা ছিল না। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার গভীর সমুদ্রের পরিবেশ, প্রাণবৈচিত্র্য এবং পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে নতুন গবেষণার দুয়ার খুলে দেবে।

আরটিভি/এসকে