images

আন্তর্জাতিক

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ১১:৪৭ এএম

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গেমিং ও লাইভ-স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের ওপরও নতুন নিয়ন্ত্রণ আনার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৬জুন) রয়টার্স প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইনস্টাগ্রামসহ জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোর পাশাপাশি অপরিচিতদের সঙ্গে শিশুদের যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করে এমন গেমিং ও অনলাইন সেবাগুলোও এই নীতির আওতায় আসতে পারে। স্টারমার বলেন, এই পদক্ষেপ শিশুদের শৈশব ফিরিয়ে দেবে এবং তাদের নিরাপদ ও সুস্থভাবে বড় হতে সাহায্য করবে।

তিনি আরও বলেন, এটি একটি বড় পরিবর্তন হবে, তবে এটি শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করবে। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, এই ধরনের বিধিনিষেধ পুরোপুরি কার্যকর করা বাস্তবে চ্যালেঞ্জিং হবে।

প্রস্তাবিত নীতির আওতায় ব্রিটিশ সরকার বলেছে, ইউটিউব, ফেসবুক এবং এক্সের ওপর এই নিয়ম প্রযোজ্য হলেও হোয়াটসঅ্যাপ এবং সিগন্যালের মতো মেসেজিং সেবাগুলো এর আওতামুক্ত থাকবে।

অন্যদিকে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক করে বলেছে, এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা কিশোরদের নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম থেকে দূরে ঠেলে দিয়ে তুলনামূলক কম নিয়ন্ত্রিত অনলাইন পরিবেশের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

ইউটিউব জানিয়েছে, তারা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশেষজ্ঞদের পরিচালিত, বয়স উপযোগী অভিজ্ঞতা এবং কিশোর-কিশোরীদের জন্য ডিফল্ট সুরক্ষা ব্যবস্থার পেছনে বিনিয়োগ করেছে।

সোমবার সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন, তরুণ, শিক্ষাবিদ এবং অভিভাবকদের জন্য ইউটিউব একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান) জানিয়েছে, অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কিশোরদের অনলাইন কমিউনিটি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে। স্ন্যাপচ্যাট-এর পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কিশোরদের বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সুরক্ষার উদ্দেশ্য প্রশংসনীয় হলেও এ ধরনের ঢালাও নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই।

সূত্র: রয়টার্স।

আরটিভি/এসকে