images

আন্তর্জাতিক

পুরো লেবানন পুড়ে যাক: ইসরাইলের নিরাপত্তামন্ত্রী

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ , ০৪:৩৮ পিএম

লাগামহীন ইসরায়েল ক্রমেই আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সম্প্রতি লেবাননে চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর দেশটির কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির একের পর এক বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘একজন ইসরাইলি মায়ের প্রতিটি অশ্রুর বদলে হাজারো লেবাননি মায়ের চোখে পানি ঝরতে হবে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আমেরিকানদের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলছি, ইসরাইলকে পুরো বিশ্বকে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে যে আমাদের সন্তানদের রক্ত এবং আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা কোনো দরকষাকষির বিষয় নয়। পুরো লেবানন পুড়ে যাক।’

বেন গভির দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংযত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে জয়ী হওয়া যায় না। তার ভাষায়, ‘সন্ত্রাসবাদকে চূর্ণ করতে হলে কঠোর ও সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগ করতে হবে।’

এদিকে ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের কূটনৈতিক নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লাপিদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘গত একদিনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসরাইলের স্মোটরিচ ও বেন গাভিরকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন যে নেতানিয়াহু লেবানন ইস্যুতে দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করছেন।’

লাপিদের মন্তব্য, ‘এই সরকারকে দ্রুত পরিবর্তন করা না গেলে ইসরায়েলের বৈদেশিক সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

আরও পড়ুন
5

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত ইরানের গোপন সেল

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা স্থগিত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের। তবে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনি সফরটি বাতিল করেছেন।

এদিকে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, শুক্রবার ভোররাতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় নাবাতিয়েহসহ আশপাশের বিভিন্ন শহর ও গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার মধ্যরাতের পর থেকে শুরু হওয়া তীব্র বিমান হামলায় উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ১৮ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে ভারী বোমাবর্ষণের একটি। নাবাতিয়েহ অঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও জনপদে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ চালানো হয়।

অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর সদস্য ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের মতে, এসব অভিযান ছিল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব।

চার সেনা নিহতের দাবি ইসরায়েলের

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে। চলমান উত্তেজনার মধ্যে এটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর একটি।

হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তাদের যোদ্ধারা দক্ষিণ লেবাননের আলি আল-তাহের পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় অগ্রসরমান একটি ইসরাইলি বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সংগঠনটির দাবি, তারা নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে তিনটি মারকাভা ট্যাংক ধ্বংস করেছে এবং রকেট ও গোলন্দাজ হামলা চালিয়েছে। সংঘর্ষ এখনও চলমান বলে তারা জানিয়েছে।

সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

আরটিভি/ এসকেডি