শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ , ০৭:৩৫ পিএম
ইরান যুদ্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ক্ষমতা প্রয়োগের সীমাবদ্ধতাকে ফুটিয়ে তুলেছে—এমন দাবি সরাসরি নাকচ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস শোতে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার ক্ষমতার ‘কোনো সীমাবদ্ধতা নেই’।
ইরান যুদ্ধের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছিলেন। তবে দীর্ঘ চার মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের অবসান ঘটে একটি সীমিত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে। অ্যাক্সিওসের সাংবাদিক মার্ক ক্যাপুটোকে ট্রাম্প জানান, এই যুদ্ধ যাতে কোনোভাবেই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দায় রূপ না নেয়, মূলত সে কারণেই তিনি শেষ মুহূর্তে এই চুক্তিতে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নেন।
তবে এই যুদ্ধ বা সমঝোতার অভিজ্ঞতা তাকে কিছুটা নমনীয় করেছে—এমন ধারণা পরিষ্কারভাবে নাকচ করে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যুদ্ধ থেকে নিজের ক্ষমতার সীমা সম্পর্কে ঠিক কী শিখেছেন, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এখানে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। আমি এখনো তেমন কোনো শিক্ষা পাইনি। আমি জানি সাধারণ নিয়মে সীমাবদ্ধতা থাকে, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।’
চুক্তি নিয়ে ঘরে-বাইরে নানামুখী সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘আমরা তাদের (ইরান) সামরিকভাবে পুরোপুরি পরাজিত করেছি।’ এমনকি তার মতে, এই সমঝোতা স্মারকটিও একধরনের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ। চলমান এই যুদ্ধ বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির শ্রেষ্ঠত্বই প্রমাণ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘এমন কঠোর অবরোধ আর কে দিতে পারত? আমি এমন এক নৌ অবরোধ দিয়েছিলাম, যেখানে একটি জাহাজও পার হতে পারেনি। কেউ কেউ চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা বেশিক্ষণ টেকেনি।’
তবে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এটিও স্বীকার করেন যে শেষ পর্যন্ত চুক্তি না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান না নেওয়ার কারণে নিজের দলের ভেতরেই যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে, তার জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আরও কঠোর হতে পারতাম যদি আরও দুই বা তিন সপ্তাহ অনবরত বোমাবর্ষণ চালিয়ে যেতাম। কিন্তু তাতে লাভ কী হতো? কৌশলগত হরমুজ প্রণালি তখন আর খোলা থাকত না।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘মাসের পর মাস বিশ্ববাজারে তেল পাওয়া যেত না। যতক্ষণ বোমা পড়ত, প্রণালিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ থাকত।’ আর এ ধরনের জ্বালানি সংকট পরিস্থিতি পুরো বিশ্বব্যাপী একটি বড় অর্থনৈতিক মন্দার কারণ হতে পারত বলেই তিনি বোমাবর্ষণ থামিয়ে চুক্তির পথে হেঁটেছেন বলে জানান।
আরটিভি/এআর