images

আন্তর্জাতিক / যুক্তরাজ্য

প্রধানমন্ত্রী পদে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে ঠেকাতে লেবার পার্টিতে নতুন লড়াই

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ , ১১:৩৬ এএম

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টিতে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই দলের নেতা ও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ আটকাতে অন্তত দুইজন জ্যেষ্ঠ নেতা নেতৃত্বের দৌড়ে নামার কথা ভাবছেন।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আল কার্নস নেতৃত্বের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের পদত্যাগকৃত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ড্যারেন জোন্সও প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করেননি।

লেবার পার্টিতে এমপিদের একটি অংশ মনে করছেন, আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যেই অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। কারণ কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তবে দলের অনেক নেতাই মনে করছেন, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ছাড়া নতুন নেতা নির্বাচন করা ঠিক হবে না। তাদের মতে, যিনি দেশের সর্বোচ্চ দায়িত্ব নেবেন, তার নীতি ও পরিকল্পনা যাচাইয়ের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিযোগিতা প্রয়োজন।

বার্নহ্যাম গত সপ্তাহে মেকারফিল্ডের উপনির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর লেবার দলের নতুন নেতা হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। সাবেক গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র বার্নহ্যাম সোমবার (২২ জুন) সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, তিনি নেতৃত্বের নির্বাচনে অংশ নেবেন।

আরও পড়ুন
MYANMAR-GAS

চারটি বিশাল গ্যাস ক্ষেত্রের সন্ধান পেল মিয়ানমার

তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত ওয়েস স্ট্রিটিং দ্রুত বার্নহ্যামকে সমর্থন করায় দলের ভেতরে তার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতা হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়েছে।

তবে লেবার এমপি জন স্লিঙ্গার বলেছেন, দলের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব নির্বাচন প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ চাইবে না কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই কেউ দেশের সর্বোচ্চ পদে চলে আসুক।

অন্যদিকে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আল কার্নস জানিয়েছেন, তিনি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি বলেন, রাজনীতিতে শুধু কৌশল নয়, ভবিষ্যতের বড় লক্ষ্য ও পরিকল্পনার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

কিয়ার স্টারমার লেবার পার্টির নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নতুন নেতা নির্বাচনের সময়সূচি ঠিক করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আগামী ৯ জুলাই মনোনয়ন শুরু হবে এবং ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে তা শেষ হবে। নেতৃত্বের প্রার্থী হতে হলে একজন প্রার্থীকে কমপক্ষে ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন পেতে হবে।

এদিকে বিরোধী দলগুলোও লেবার পার্টির নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনা শুরু করেছে। কনজারভেটিভ দলের নেতা কেমি ব্যাডেনক বলেন, লেবার দলের নীতি বদলাবে না, শুধু নেতা পরিবর্তন হবে। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভিও বলেন, ব্রিটিশ জনগণ বারবার প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের রাজনীতিতে বিরক্ত।

সংস্কারপন্থি দলের নেতা নাইজেল ফারাজ নতুন করে সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, লেবার দল যদি আরেকজন রাজনীতিককে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসাতে চায়, তাহলে জনগণ তা সহজভাবে নেবে না।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হলে অর্থনীতি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তার সহযোগীরা জানিয়েছেন, এখনো মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

কিয়ার স্টারমার ২০২০ সালে লেবার দলের নেতা নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালের ৫ জুলাই নির্বাচনে বড় জয়ের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হন। তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে ২০১৬ সালের পর যুক্তরাজ্য সপ্তম প্রধানমন্ত্রীর মুখ দেখতে যাচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি 


আরটিভি/জেএমএ