বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ , ০৯:৪৬ এএম
ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার ঐতিহাসিক লোহাগাড দুর্গে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে হবু স্বামীকে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক কিশোরীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই কিশোরী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী নভেম্বরে কেতন আগারওয়াল ও সিয়া গোস্বালের বিয়ের কথা ছিল। বিয়ের আয়োজনও শুরু হয়ে গিয়েছিল জোরেশোরে। রাজস্থানের জয়পুরে প্রায় ১৭ কোটি রুপি ব্যয়ে একটি প্রাসাদ ভাড়া করা হয়েছিল এবং অতিথিদের যাতায়াতের জন্য দুটি প্রাইভেট বিমানেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
তবে তদন্তে জানা যায়, সিয়া এ বিয়েতে সম্মত ছিলেন না। কিন্তু তিনি বিষয়টি পরিবারকে জানাননি। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ে এড়াতেই তিনি পরিকল্পিতভাবে কেতনকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।
গত ১৮ জুন, নিজের জন্মদিনে সিয়া কেতনকে নিয়ে পুনের লোহাগাড দুর্গে ঘুরতে যান। সেখানে তার প্রেমিকের সহযোগিতায় কেতনকে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর খাদ থেকে কেতনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর সিয়া দাবি করেছিলেন, ছবি তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত কেতন খাদে পড়ে যান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোক প্রকাশ করে একাধিক আবেগঘন পোস্ট দেন। তবে তদন্তের সময় তার বক্তব্যে অসঙ্গতি খুঁজে পায় পুলিশ।
পরে বিস্তারিত তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়। পুলিশ সিয়া গোস্বাল ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিহত কেতন আগারওয়ালের বাবা রাজস্থানের একজন পরিচিত আবাসন ব্যবসায়ী। পরিবারের একমাত্র ছেলের বিয়েকে ঘিরে কয়েক কোটি রুপি ব্যয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। বর্তমানে ঘটনার আরও তদন্ত চলছে।
সূত্র: এনডিটিভি
আরটিভি/এসকে