বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ , ০৪:৫৪ পিএম
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলায় থানায় ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে এক কর্নেল ও এক মেজরসহ সেনাবাহিনীর ৪০ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
দায়েরকৃত এফআইআরে পুলিশ ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল এন অরুণ গান্ধী, মেজর বিকাশ শর্মা, নায়েব সুবেদার শঙ্কর গুরখে এবং আরও ৩০-৪০ জন অজ্ঞাতনামা সেনা সদস্যকে আসামি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কিশতওয়ারের আথোলি থানায় জোরপূর্বক প্রবেশ, সরকারি কর্মকর্তা ও থানার ভেতরে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী আইনি প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করবে। যৌথ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্ত চলমান থাকায় এ পর্যায়ে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা উচিত হবে না।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আথোলির ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) বিজয় কুমার ভগত এবং আথোলি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) অমৃত কাটোচ।
এসএইচও’র দায়ের করা এফআইআরে বলা হয়েছে, তিনি যখন পাড্ডারের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে অনুষ্ঠিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলেন, তখন সেনাসদস্যরা থানায় হামলা চালায়। ওই অনুষ্ঠানে কিশতওয়ারের জেলা কমিশনার সভাপতিত্ব করছিলেন।
থানার ভেতরে সহিংস ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত থানায় ফিরে আসেন বলে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে।
এফআইআরে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগকারী কর্মকর্তা থানার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই মেজর বিকাশ শর্মার নেতৃত্বাধীন সেনাসদস্যরা তার ওপর শারীরিক হামলা চালায়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সেনা সদস্যরা তার ইউনিফর্মের শার্ট ছিঁড়ে ফেলে এবং এসডিপিও আথোলি শ্রী বিজয় কুমার ভগতের ওপরও হামলা করে।
পুলিশের অভিযোগ, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
এফআইআর অনুযায়ী, সেনাসদস্যরা লাঠি, লোহার রড এবং সরকারি অস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় থানার প্রধান ফটক ও সীমানা প্রাচীর টপকে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, কিশতওয়ারের সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন কর্মকর্তা (এআরটিও) সেনাবাহিনীর একটি যানবাহন জব্দ করার পরই সেনাসদস্যরা থানায় হামলা চালায়।
এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা সরকারি ও জনসম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। তারা এআরটিওর সরকারি গাড়ি, আথোলি থানার এসএইচওর গাড়ি এবং এসডিপিও আথোলির গাড়ি ভাঙচুর করে। এছাড়া থানার প্রধান ফটকও ভেঙে ফেলে।
পুলিশের দাবি, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। অভিযুক্ত সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্য ছিল দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ‘হত্যা করা’।
আরটিভি/এমএম