images

আন্তর্জাতিক / মধ্যপ্রাচ্য / যুক্তরাষ্ট্র

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬ , ০৮:২৭ এএম

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এবারও একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে এই অভিযানের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলায় সেই শান্তি সমঝোতা এখন পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে।

রোববার(২৮ জুন) ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাতে সর্বশেষ এই হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের বিরুদ্ধে ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের সরাসরি জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাঁটি ও ড্রোন সংরক্ষণাগারকে লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুদ্ধবিমান।’

আরও পড়ুন
US

ইরানের ভয়ে আরব অঞ্চল থেকে ঘাঁটি সরানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক বন্দরের কাছে তাহরুই গ্রামসংলগ্ন এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। গত শুক্রবারও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মূল কেন্দ্র ছিল এই এলাকাটি। এ ছাড়া এবার পারস্য উপসাগরের কৌশলগত কেশম দ্বীপেও মার্কিন বিমান হামলা হয়েছে।

এদিকে হামলা শুরু হওয়ার দুই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা অনুযায়ী ইরান পদক্ষেপ না নিলে শনিবারের এই হামলা আরও তীব্র সামরিক সংঘাতের পূর্বাভাস হতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, ইরান বারবার দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করেছে। যদিও এই ধরনের অভিযোগ উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে করে আসছে। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘সম্ভবত তারা (ইরান) কখনোই শিক্ষা নেবে না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘এমন একটি সময় আসতে পারে, যখন আমাদের পক্ষে আর সংযম দেখানো সম্ভব হবে না। আমরা যে অভিযান অত্যন্ত সফলভাবে শুরু করেছি, তা সামরিকভাবে সম্পূর্ণ করতে বাধ্য হব। যদি তা ঘটে, তাহলে ইরানের আর অস্তিত্ব থাকবে না।’

আরটিভি/এআর