images

আন্তর্জাতিক / এশিয়া

মিয়ানমারে পাথরের খনিতে ভূমিধস, নিহত ৫ 

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ , ১২:২৬ পিএম

মিয়ানমারে প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে একটি পরিত্যক্ত জেড পাথরের খনিতে বর্জ্যের বিশাল স্তূপ ধসে পড়ে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ সময় খনিতে মূল্যবান পাথরের খোঁজে কাজ করছিলেন বেশ কয়েকজন শ্রমিক। এই ঘটনায় এখনো অন্তত ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তারা ধসে পড়া আবর্জনার নিচে চাপা পড়েছেন।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুন) এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার’ এক প্রতিবেদনে জানায়, বেশ কয়েক দিন ধরে এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। এর ফলে পুরোনো খনিটির ভেতর থাকা আবর্জনার স্তূপগুলো অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ধসে যায়। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১৫ জন নিখোঁজ আছেন। নিখোঁজদের খুঁজে বের করার জন্য খনিতে বর্তমানে উদ্ধার ও খনন কার্যক্রম চলছে।

আরও পড়ুন
8

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭১৯

প্রসঙ্গত, রোববার(২৮ জুন) কাচিনের হাকান্ত টাউনশিপে ফ্লাডলাইটের আলোতে প্রায় ২০ জন অনিবন্ধিত জেড আহরণকারী কাজ করছিলেন। এ সময় আকস্মিক ভূমিধসে তারা মাটির নিচে চাপা পড়েন বলে দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়।

মিয়ানমারের খনিজ আহরণ খাতে নিরাপত্তা ও আইনি বিধিনিষেধ মেনে না চলার এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বিশেষ করে দেশটির উত্তর কাচিন রাজ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। এই এলাকাটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় জেড পাথরের উৎস হিসেবে বিবেচিত। প্রতিবেশী চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় আচার ও নানাবিধ কাজে অত্যন্ত মূল্যবান এই পাথরের বিশেষ কদর ও চাহিদা রয়েছে।

২০২১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারের পতনের পর থেকেই মিয়ানমারে একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি মূল্যবান পাথরের খনি সরাসরি এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা খনি থেকে আহরিত সম্পদ ও পাথর বিক্রির মুনাফা দিয়ে নিজেদের যুদ্ধের প্রয়োজনীয় অর্থায়ন করে থাকে।

দুর্বল অবকাঠামো ও পাহাড় কাটার কারণে বিশেষ করে বর্ষাকালে মিয়ানমারের এই জেড খনিগুলোতে প্রাণঘাতী ধসের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।
 
আরটিভি/এআর